“আমি স্বার্থপর, বিশ্বাসঘাতকতা করেছি!” ভোটের মুখে বিস্ফোরক তৃণমূল প্রার্থী বায়রন, কেন নিলেন অধীরের নাম?

বিধানসভা নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হতেই বঙ্গ রাজনীতিতে আক্ষরিক অর্থেই বোমা ফাটালেন সাগরদিঘির বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস। একদা কংগ্রেসের টিকিটে জিতে তৃণমূলে যোগ দেওয়া এই নেতা শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে যা বললেন, তাতে কার্যত স্তম্ভিত রাজনৈতিক মহল। কোনো রাখঢাক না করেই বায়রন স্বীকার করে নিলেন যে, তিনি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন।

“আমি স্বার্থপর, বিশ্বাসঘাতক”:
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এদিন বেশ আবেগপ্রবণ মেজাজে দেখা যায় বায়রনকে। তিনি বলেন, “আমি স্বার্থপর। আমি বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। আমি বলব না যে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি। কংগ্রেস থেকে টিকিট পেয়েছিলাম, কিন্তু দল বদলেছি।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে ভোটাদের সহানুভূতি পেতেই কি এই ‘সত্যবচন’, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো সমীকরণ?

অধীর চৌধুরীই ‘গুরুদেব’:
নিজের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান তৃণমূলে হলেও, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকে নিয়ে বায়রনের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। অধীরকে ‘গুরু’ মেনে বায়রন বলেন, “আমার হাতেখড়ি অধীররঞ্জন চৌধুরীর হাতে। তাঁকে সারাজীবন মনে রাখব। উনি আমার গুরুদেব। ভগবানের পরে অধীর চৌধুরীর স্থান।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বড় ভাই হিসেবে অধীর চৌধুরী তাঁকে বকাঝকা করতেই পারেন, তাতে তাঁর কোনো দুঃখ নেই।

ভোটের মুখে অস্বস্তিতে তৃণমূল?
সাগরদিঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন বায়রন। পরে তিনি ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেন। এবার সেই সাগরদিঘিতেই তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন তিনি। কিন্তু ভোটের মুখে খোদ প্রার্থীর মুখেই ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র স্বীকারোক্তি এবং বিরোধী নেতার প্রতি ভক্তি প্রদর্শন তৃণমূল শিবিরের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, সাগরদিঘির মানুষ কি এই ‘স্বীকারোক্তি’কে সহজভাবে নেবে, নাকি ইভিএমে এর কড়া জবাব দেবে? উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত।