এলপিজি-র দিন কি শেষ? রান্নার গ্যাসে এবার মিশবে ইথানল! মোদি সরকারের মেগা প্ল্যানে বাঁচবে হাজার কোটি টাকা

হরমুজ প্রণালী খুলে গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় এলপিজি (LPG) সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না ভারতের। আমদানিকৃত গ্যাসের ওপর এই অতি-নির্ভরতা কমাতে এবার বিকল্প এবং সস্তা পথের সন্ধান পেয়েছে মোদি সরকার। পেট্রোলের পর এবার সরাসরি রান্নাঘরেও জায়গা করে নিতে পারে ইথানল।

সরকারের মেগা পরিকল্পনা: ১০০০ কোটি লিটারের মাস্টারস্ট্রোক
সূত্রের খবর, দেশে বর্তমানে ইথানল উৎপাদনের ক্ষমতা প্রায় ২,০০০ কোটি লিটারে পৌঁছেছে। ২০% ইথানল ব্লেন্ডিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করার পরেও সরকারের কাছে প্রায় ১,০০০ কোটি লিটার উদ্বৃত্ত ইথানল সঞ্চিত রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ ইথানলকে রান্নার কাজে ব্যবহার করার জন্য একটি বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরি করেছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই বিষয়ে বড় পদক্ষেপ নিতে পারে কেন্দ্র।

কেন ইথানল হবে সেরা বিকল্প?
বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নার জ্বালানি হিসেবে ইথানল ব্যবহারের একাধিক সুবিধা রয়েছে:

সাশ্রয়ী: বাণিজ্যিক এলপিজি-র তুলনায় ইথানল অনেক সস্তা (প্রতি কেজিতে প্রায় ৩০-৩৫ টাকা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা)।

পরিবেশবান্ধব: ইথানল কার্বন নিঃসরণ কমায় এবং ঘরোয়া দূষণ রোধে সহায়ক।

নির্ভরতা হ্রাস: এর ফলে বিদেশের ওপর এলপিজি নির্ভরতা কমবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

কৃষকদের লাভ: আখ ও ভুট্টা থেকে ইথানল তৈরি হওয়ায় লাভবান হবেন ভারতীয় কৃষকরাও।

প্রধানমন্ত্রীর ‘ভিশন’ ও বর্তমান অগ্রগতি
সম্প্রতি লোকসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইথানল ব্লেন্ডিং কর্মসূচির অভাবনীয় সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ১০ বছরে দেশে ইথানল ব্লেন্ডিং ১% থেকে বেড়ে ২০%-এ পৌঁছেছে, যা গত এক বছরে প্রায় ৪.৫ কোটি ব্যারেল তেল আমদানি কমাতে সাহায্য করেছে। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের আবহে এই সাফল্যকেই এখন রান্নার গ্যাসের বিকল্প হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছে সরকার।

কবে থেকে মিলবে সুবিধা?
বর্তমানে আইআইটি (IIT) এবং এলপিজি ইকুইপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার (LERC) ইথানল ব্যবহারের উপযুক্ত উন্নত মানের বার্নার ও স্টোভ তৈরির কাজ চালাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বাণিজ্যিক রান্নাঘরগুলোতে এই প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা সফল হলে ধাপে ধাপে সাধারণ গৃহস্থালিতেও পৌঁছে যাবে ‘সবুজ জ্বালানি’ ইথানল।

জ্বালানির বাজারে এই ‘ইথানল বিপ্লব’ সফল হলে, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা আমজনতার রান্নাঘরের বাজেটে আর কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।