খুলে গেল হরমুজ প্রণালী! ট্রাম্প বললেন ‘উজ্জ্বল দিন’, কিন্তু কেন এখনও ঢুকতে ভয় পাচ্ছে বিদেশি জাহাজ?

দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস পর অবশেষে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী। শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই ঘোষণা দিলেও আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য মহলে এখনও কাটছে না আতঙ্ক। বরং ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে জাহাজ সংস্থাগুলো।

আরাঘচির ঘোষণা ও শর্তাবলী
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই যাতায়াত অবাধ নয়।

নির্ধারিত রুট: জাহাজগুলোকে ইরানের দেওয়া ‘নিরাপদ লেন’ বা নির্দিষ্ট মানচিত্র মেনেই চলতে হবে।

সামরিক জাহাজে নিষেধাজ্ঞা: বাণিজ্যিক জাহাজকে অনুমতি দিলেও কোনো বিদেশি সামরিক জাহাজ এই প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)।

ট্রাম্পের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ইরানের এই সিদ্ধান্তকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প “বিশ্বের জন্য একটি মহান ও উজ্জ্বল দিন” বলে অভিহিত করেছেন। তবে তাঁর গলায় ছিল হুঁশিয়ারির সুরও। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হরমুজ খুললেও ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ এখনই উঠছে না। দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই চাপ বজায় রাখবে ওয়াশিংটন।

সতর্ক অবস্থানে বাণিজ্যিক গোষ্ঠীগুলো
শিপ ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, ঘোষণার পরেও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের আনাগোনা অত্যন্ত সীমিত। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে এই রুটটি কার্যত বন্ধ ছিল। দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর এই পথটি বর্তমানে কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে নিশ্চিত হতে চাইছে আন্তর্জাতিক বিমা ও শিপিং কোম্পানিগুলো।

২২শে এপ্রিলের অপেক্ষা
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২শে এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে। তার আগে সোমবার ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামের স্থিতি।

পুরো বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ২২শে এপ্রিলের দিকে— আলোচনার টেবিলে সমাধান মেলে নাকি ফের গর্জে ওঠে কামানের গোলা, সেটাই দেখার।