“মাসে ৩০০০ টাকার টোপ!”-ভোটের মুখে বিজেপির ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ ঘিরে তুলকালাম, বন্ধ করল কমিশন?

রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ‘ভাতা রাজনীতি’ ঘিরে তুঙ্গে উঠল বিতর্ক। তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে’র পাল্টা হিসেবে বিজেপি জেলায় জেলায় ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ফর্ম বিলি শুরু করতেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। নির্বাচনি আচরণবিধি জারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই ফর্ম বিলি করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

ঠিক কী ঘটেছে হাওড়ায়? তৃণমূলের অভিযোগ, শুক্রবার সকালে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুরঘাট সংলগ্ন এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্প করে বিজেপির মহিলা মোর্চা। সেখান থেকে মহিলাদের হাতে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ফর্ম তুলে দেওয়া হয়। দাবি করা হয়, বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রতি মাসে মহিলাদের ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপিকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও চাওয়া হয় বলে অভিযোগ।

তৃণমূলের পাল্টা চাল ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ: ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূলের হাওড়া জেলা চেয়ারম্যান অরূপ রায় এই ঘটনাকে সরাসরি ‘ভোটারদের প্রভাবিত করার চক্রান্ত’ বলে দেগে দিয়েছেন। তৃণমূলের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছান নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক ও পুলিশ কর্মীরা। সূত্রের খবর, বিধিভঙ্গের আশঙ্কায় তৎক্ষণাৎ ওই ক্যাম্প বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজেপির সাফাই: অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন বিজেপির মহিলা মোর্চার হাওড়া জেলা সভানেত্রী সুইটি সাউ। তিনি জানান, সকাল থেকে প্রায় ২০০টি ফর্ম বিলি করা হয়েছে। তবে তাঁর দাবি, এটি কোনো অন্যায় নয়; বরং বিজেপি সরকার গড়লে কী কী সুবিধা দেবে, সেই লক্ষ্যেই এই জনসংযোগ ও আশ্বাস প্রদান।

নির্বাচন কমিশন এখন এই ‘গ্যারান্টি কার্ড’ বা ফর্ম বিলিকে কেন্দ্র করে কী চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।