মোদী-শাহের মহাহের! লোকসভায় ২৮ ভোটের জন্য আটকে গেল মহিলা বিল, বিরোধী ঐক্যের বিরাট জয়

২০২৬-এর উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহে এক ঐতিহাসিক হারের সাক্ষী থাকল মোদী সরকার। লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও সংবিধান সংশোধনীর জন্য প্রয়োজনীয় ‘ম্যাজিক ফিগার’ ছোঁয়া সম্ভব হলো না। আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি ভোটাভুটিতে পরাজিত হওয়ায় তা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হলো কেন্দ্র।
সংখ্যার অংকে কুপোকাত কেন্দ্র: সংসদে এই মেগা বিল পাশ করাতে ভোটাভুটি শুরু হতেই সরকারের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য প্রয়োজন ছিল দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৩২৬টি ভোট। কিন্তু ফলাফল আসতেই দেখা যায়:
-
সরকারের পক্ষে ভোট: ২৯৮টি
-
বিপক্ষে ভোট: ২৩০টি ম্যাজিক ফিগারের চেয়ে ২৮টি ভোট কম পাওয়ায় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিলটি নিয়ে আর না এগোনোর কথা জানান এবং তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
রাহুল-প্রিয়াঙ্কার জ্বালাময়ী আক্রমণ: বিলটি আটকে যাওয়ার পর লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী জয়ের মেজাজে বলেন, “এটি আসলে মহিলাদের ক্ষমতায়নের বিল ছিল না, ছিল ভারতের নির্বাচনী কাঠামো পরিবর্তনের এক গভীর ষড়যন্ত্র। আমরা সংবিধানের ওপর এই আক্রমণ প্রতিহত করেছি। প্রধানমন্ত্রী যদি সত্যিই সংরক্ষণ চান, তবে পুরনো বিলটি আনুন, আমরা এখনই সমর্থন দেব।” অন্যদিকে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কড়া ভাষায় বিঁধে বলেন, “যাঁরা হাথরসে চুপ ছিল, মণিপুরের নারীদের ওপর অত্যাচারে নীরব ছিল, আজ তাঁরাই নারী দরদি সাজছে! এই জয় গণতন্ত্র ও দেশের অখণ্ডতার জয়।”
কেন এই ৩টি বিল ঘিরে এত বিতর্ক? ১. নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম: ৩৩% সংরক্ষণ দেওয়ার আড়ালে আসন সংখ্যা ৮৫০ করার পরিকল্পনা। ২. ডিলিমিটেশন বিল: লোকসভার আসন বিন্যাসের মাধ্যমে নির্বাচনী মানচিত্র বদলের চেষ্টা। ৩. কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংশোধন বিল: কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও আসন বৃদ্ধির লক্ষ্য। বিরোধীদের দাবি ছিল, পুরনো জনগণনার ভিত্তিতে এবং ওবিসিদের বাদ দিয়ে এই ধরণের বিল অসাংবিধানিক।
অমিত শাহের মরিয়া চেষ্টা: ভোটাভুটির আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধীদের কাছে বারংবার সমর্থনের আবেদন জানিয়ে বলেছিলেন, “আমাদের ওপর ভরসা রাখুন।” কিন্তু বিরোধীরা একজোট থাকায় অমিত শাহের সেই ‘চাণক্য চাল’ এবার ব্যর্থ হলো। ১১ বছরের মোদী শাসনে এই প্রথম কোনও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিল ভোটাভুটিতে হেরে সংসদে মুখ থুবড়ে পড়ল।