মোদী ম্যাজিক ব্যর্থ! লোকসভায় মুখ থুবড়ে পড়ল নারী সংরক্ষণ বিল, ‘সংবিধানের জয়’ দাবি রাহুলের

২০২৯ সালের লক্ষ্য নিয়ে আনা মোদী সরকারের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে গেল। লোকসভায় ভোটাভুটিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় খারিজ হয়ে গেল ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল (নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম)। সরকারের এই হারকে ‘সংবিধানের জয়’ এবং ‘অসাংবিধানিক ছক রুখে দেওয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

সংখ্যার হিসাবে বড় পরাজয়: সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন বাধ্যতামূলক। আজকের ভোটাভুটিতে অংকটি ছিল নিম্নরূপ:

  • প্রয়োজনীয় ভোট: ৩৬০টি

  • বিলের পক্ষে পড়ল: ২৯৮টি ভোট

  • বিলের বিপক্ষে পড়ল: ২৩০টি ভোট

  • মোট ভোট দিয়েছেন: ৫২৮ জন সাংসদ

প্রয়োজনের চেয়ে ৬২টি ভোট কম পাওয়ায় বিলটি খারিজ হয়ে যায়। এর জেরে ডিলিমিটেশন বা লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বাকি দুটি বিল নিয়েও আর এগোতে পারছে না সরকার।

রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া: বিল খারিজ হওয়ার পরেই এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে রাহুল গান্ধী আক্রমণাত্মক পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, “সংশোধনী বিলটি মুখ থুবড়ে পড়ল। ওরা মহিলাদের নামে সংবিধান ভাঙার জন্য অসাংবিধানিক কৌশল ব্যবহার করেছিল। ভারত তা দেখে নিয়েছে, INDIA জোট তা রুখে দিয়েছে। জয় সংবিধান!” রাহুলের মতে, নারী সংরক্ষণের আড়ালে নির্বাচনী কাঠামো বদলে দেওয়ার যে চেষ্টা সরকার করেছিল, তা আজ ব্যর্থ হলো।

বিরোধীদের ক্ষমা করবে না নারীরা: কিরেণ রিজিজু অন্যদিকে, বিল খারিজ হওয়ার পর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। তিনি সরাসরি বিরোধী শিবিরকে আক্রমণ করে বলেন, “আজ বিরোধীদের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা তা হাতছাড়া করল। দেশের নারীরা এই বিরোধিতার জন্য বিরোধীদের কখনও ক্ষমা করবে না।” সরকার পক্ষ দাবি করেছে, বিরোধীদের অনড় অবস্থানের কারণেই মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের স্বপ্ন ধাক্কা খেল।

১১ বছরের মোদী শাসনে এই ধরণের সাংবিধানিক বিলের পরাজয় জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী ঐক্যের এক নতুন অধ্যায় শুরু করল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Samrat Das
  • Samrat Das