“সময়ের চেয়ে এগিয়ে ছিলাম”, ‘ছত্রাক’ কাণ্ডের সেই বিতর্কিত দৃশ্য নিয়ে দেড় দশক পর মুখ খুললেন পাওলি!

আজ থেকে প্রায় দেড় দশক আগের কথা। সোশ্যাল মিডিয়ার তখন জন্মই হয়নি বলা চলে, কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামেনি। সৌজন্যে— শ্রীলঙ্কার পরিচালক বিমুক্তি জয়সুন্দর পরিচালিত বাংলা ছবি ‘ছত্রাক’। ছবিতে একটি সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করে টলিউড থেকে ড্রয়িংরুম, সর্বত্র সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছিলেন অভিনেত্রী পাওলি দাম। দীর্ঘ ১৫ বছর পর সেই পুরনো ক্ষত এবং তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী।

“অপরিণত দর্শকদের শিকার হয়েছিলাম”
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে পাওলি জানান, সেই সময় তাঁকে ঘরে-বাইরে চরম কটুক্তির শিকার হতে হয়েছিল। পাওলির কথায়, সেই সময়কার সমাজ ও দর্শক এই ধরনের সাহসী শিল্পকে গ্রহণ করার মতো যথেষ্ট পরিণত ছিল না। তিনি বলেন:

“এখন এই ধরনের কাজ হলে মানুষ উদযাপন করেন। আসলে যাঁরা এখন এই কাজগুলোকে সেলিব্রেট করছেন, তাঁরা সময়ের সাথে পরিণত হয়েছেন। আগে তাঁরা অপরিণত ছিলেন, তাঁদের মানসিকতারও এখন আমূল পরিবর্তন হয়েছে।”

সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা পাওলি
নিজের অভিনয়ের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে পাওলি জানান, তিনি জানতেন আজ না হোক কাল ভারতীয় সিনেমায় এই ধরণের কাজ হবেই। তিনি বলেন, “আমি এই ধরণের বিশ্বমানের ছবি দেখেই বড় হয়েছি। আমার মনে হয়েছিল আমি সময়ের থেকে একটু এগিয়ে কিছু করছি। এটা তো হওয়ারই ছিল।” অভিনেত্রীর মতে, তখনকার দিনে বিষয়টিকে যতটা বিতর্কিত করা হয়েছিল, তা কিছুটা সাজানোও ছিল।

বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ ও সেন্সরশিপ
টলিউডে সাহসী দৃশ্য নিয়ে নির্মাতাদের জড়তা এখনও কাটেনি বলে মনে করেন পাওলি। সেন্সর বোর্ডের কড়াকড়ি নিয়ে তাঁর সাফ কথা, “এমনিতেও বলা হয় বাংলা ছবিতে খোলা পিঠ আর খোলা পা ছাড়া আর কিছুই দেখানো যায় না।” তাঁর মতে, শুধুমাত্র দর্শক পরিণত হলেই হবে না, সিনেমা নির্মাতাদেরও এই আড়ষ্টতা কাটিয়ে উঠতে হবে। তবেই বাংলা ছবির সত্যিকারের উন্নতি সম্ভব।

বর্তমানে পাওলি দামের এই বক্তব্য টলিপাড়ায় নতুন করে তর্কের রসদ জুগিয়েছে। ‘ছত্রাক’-এর সেই দৃশ্যটি যে কেবল শরীরী প্রদর্শন ছিল না বরং শিল্পের একটি সাহসী এক্সপেরিমেন্ট ছিল, আজ ১৫ বছর পর তা যেন আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন অভিনেত্রী।