ভুয়ো প্রজেক্টে কোটি কোটি টাকার তছরুপ? সল্টলেক থেকে কালীঘাট—৫ জায়গায় ইডির ম্যারাথন তল্লাশি

লোকসভা ভোটের ঠিক এক সপ্তাহ আগে খাস কলকাতায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির ঝোড়ো ব্যাটিং। আর্থিক তছরুপ ও জমি সংক্রান্ত জালিয়াতির তদন্তে শুক্রবার ভোর থেকে কলকাতার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় একযোগে তল্লাশি শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আবাসন শিল্পে নামী সংস্থা মার্লিন গ্রুপ থেকে শুরু করে দক্ষিণ কলকাতার হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে এদিন সকাল থেকেই উত্তপ্ত তিলোত্তমা।
মার্লিন গ্রুপ ও ডিসি পাল গ্রুপ: কী এই জালিয়াতি?
ইডির দাবি, মার্লিন গ্রুপের বিরুদ্ধে ভুয়ো নথিপত্র ব্যবহার করে জমি দখল এবং কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে তোলার অভিযোগ রয়েছে। এই তদন্তের সূত্র ধরেই সামনে এসেছে ডিসি পাল গ্রুপ (DC Pal Group) নামে আরও একটি নির্মাণ সংস্থার নাম।
সল্টলেকের সিএফ (CF) ব্লক: এখানে ডিসি পাল গ্রুপের অফিসে সকাল থেকেই চলছে তল্লাশি।
সিকে (CK) ব্লক: সংস্থার কর্তার বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন ইডি আধিকারিকরা।
মিডলটন স্ট্রিট: মার্লিন গ্রুপের সঙ্গে জড়িত এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় দল।
তদন্তকারীদের দাবি, একটি জমিকে কেন্দ্র করে জাল নথি বানিয়ে বাজার থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা তোলা হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল সুশীল মোহতা ও সাকেত মোহতার বাড়িতে তল্লাশির পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আজকের এই ‘অপারেশন’।
কালীঘাটে উত্তেজনা: তৃণমূল নেতার বাড়িতে ইডি
অন্যদিকে, এদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই কালীঘাটের গ্রিক চার্চ রো-তে তৃণমূল নেতা কুমার সাহার ফ্ল্যাটে হানা দেয় ইডি। দক্ষিণ কলকাতার এই নেতার বাড়িতে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ঢুকতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা।
বিক্ষোভে উত্তাল এলাকা:
তৃণমূল নেতার অনুগামীরা খবর পেয়েই আবাসনের নিচে জড়ো হন। ইডি আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ির সামনে বসে পড়ে তাঁরা অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভোটের মুখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই হয়রানি চালানো হচ্ছে। যদিও ইডি সূত্রে খবর, মার্লিন গ্রুপের আর্থিক লেনদেনের নথিতেই নাম মিলেছে এই নেতার।
ভোটের মুখে ‘তদন্ত-অস্ত্র’?
নির্বাচনের মাত্র ৭ দিন আগে এই বিশাল তল্লাশি অভিযান নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। বিরোধীদের দাবি, দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের অভিযোগ, এজেন্সিকে ব্যবহার করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্র।
বর্তমানে প্রতিটি ঠিকানাতেই আধিকারিকরা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন। ডিজিটাল এভিডেন্স এবং ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট খতিয়ে দেখে এই চক্রের মাস্টারমাইন্ডদের খুঁজে বের করাই এখন ইডির মূল লক্ষ্য।