যুদ্ধের মোড় ঘোরাবে ইরানের ‘ম্যানপ্যাডস’! মার্কিনিদের ল্যাজেগোবরে করতে ড্রাগনের দেশের অস্ত্র কি এখন তেহরানের হাতে?

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে এবার তুরুপের তাস হতে চলেছে ‘ম্যানপ্যাডস’ (MANPADS)। প্রযুক্তির লড়াইয়ে আমেরিকা এগিয়ে থাকলেও, স্থলযুদ্ধে ইরান যে মার্কিন আধিপত্যকে মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারে, তার ইঙ্গিত দিচ্ছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। আর এই ধ্বংসলীলার নেপথ্যে থাকবে এমন এক অস্ত্র, যা অনায়াসেই কাঁধে করে বহন করা যায়।
কেন এই ‘ম্যানপ্যাডস’ এত ভয়ংকর? ‘ম্যান পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ বা ম্যানপ্যাডস হলো এমন এক মিসাইল, যা রাডার ফাঁকি দিতে ওস্তাদ। এর বিশেষত্বগুলো হলো:
-
রাডার ইনভিজিবল: এটি রাডার-নির্ভর নয়, ফলে শত্রুপক্ষ টেরও পাবে না কখন এটি ধেয়ে আসছে।
-
অমোঘ লক্ষ্য: মাটি থেকে ৪-৫ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা যে কোনো যুদ্ধবিমান বা হেলিকপ্টারকে নিমেষে ধ্বংস করতে পারে।
-
সহজে বহনযোগ্য: এটি দ্রুত বহন করা যায় এবং লুকিয়ে ফেলা যায়। ইরানের পাহাড়ি উপত্যকায় এই অস্ত্র ব্যবহার করে অতর্কিত হামলা চালানো মার্কিন সেনার জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠতে পারে।
আমেরিকার দর্পচূর্ণের দাবি! আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে আমেরিকার বেশ কিছু গর্বের যুদ্ধবিমান— যেমন এফ-১৫ই (F-15E Strike Eagle) এবং এ-১০ (A-10) এর হামলা প্রতিহত করেছে ইরান। এমনকি ধ্বংস করা হয়েছে মার্কিন ট্যাঙ্কার ও নজরদারি বিমানও। যদিও আমেরিকা দাবি করে আসছে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল, কিন্তু বাস্তব চিত্রটা যে সম্পূর্ণ আলাদা, তা স্থলযুদ্ধ শুরু হলেই টের পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নেপথ্যে কি চিন? রহস্য দানা বাঁধছে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরান বিপুল পরিমাণ চিনা তৈরি ম্যানপ্যাডস ব্যবহার করছে। যদিও বেজিং এই তথ্য সরাসরি অস্বীকার করে একে ‘ভিত্তিহীন’ বলেছে। তবে খবর ছড়িয়েছে যে, চিনের তৈরি নজরদারি স্যাটেলাইট ব্যবহার করেই মার্কিন ঘাঁটিগুলো টার্গেট করছে তেহরান।
স্থলযুদ্ধের নতুন সমীকরণ: বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশপথে আমেরিকা শক্তিশালী হলেও স্থলযুদ্ধে তাদের যুদ্ধবিমানগুলোকে অনেক নিচু দিয়ে উড়তে হয়। আর ঠিক এই সুযোগটিই নেবে ইরান। পাহাড়ি খাঁজে লুকিয়ে থাকা জওয়ানরা ম্যানপ্যাডস ব্যবহার করে মার্কিন আধিপত্যকে নিমেষের মধ্যে খতম করে দিতে পারে।