৩৪ বছর পর বিশ্ব দেখবে মহাবিস্ফোরণ নয়, শান্তি! ইজরায়েল-লেবানন মুখোমুখি বসাতে ট্রাম্পের ‘মাস্টারস্ট্রোক’

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনীতিতে এক বিশাল বিস্ফোরণ নয়, বরং শান্তির বার্তা নিয়ে হাজির হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বরফ গলিয়ে এবার সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসতে চলেছে চিরশত্রু ইজরায়েললেবানন। বৃহস্পতিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি করেছেন ট্রাম্প। বিশ্বজুড়ে এই পদক্ষেপকে এক বড়সড় কূটনৈতিক ‘ব্রেকথ্রু’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্পের সেই ভাইরাল ঘোষণা:

ট্রাম্প লিখেছেন,

“ইজরায়েল আর লেবাননের মধ্যে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা করে দেওয়ার চেষ্টা করছি। দুই দেশের নেতারা শেষবার কথা বলেছিলেন প্রায় ৩৪ বছর আগে। কাল এটা হতে চলেছে। দারুণ ব্যাপার!”

কেন এই বৈঠক ঐতিহাসিক?

ইজরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেই এই বৈঠক এক নতুন আশার আলো। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার আমেরিকা, ইজরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে। ১৯৯৩ সালের পর এই প্রথম এত উচ্চপর্যায়ের কোনো কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেল।

বৈঠকের মূল লক্ষ্য ও আমেরিকার অবস্থান:

  • স্থায়ী শান্তি চুক্তি: ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতির চুক্তির পরিধি ছাড়িয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির দিকে এগোতে চায় ওয়াশিংটন।

  • হিজবুল্লাহ দমন: ইজরায়েল সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননের সমস্ত বেসরকারি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করতে হবে এবং সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ভেঙে দিতে হবে।

  • সার্বভৌমত্ব ও মানবিক সংকট: অন্যদিকে লেবানন তাদের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার পাশাপাশি বর্তমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

  • অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার: আমেরিকা আশ্বাস দিয়েছে, এই আলোচনা সফল হলে লেবাননে বড় ধরনের পুনর্গঠন সহায়তা এবং অর্থনৈতিক বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত হবে।

উপস্থিত ছিলেন কারা?

এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় আমেরিকার পক্ষে ছিলেন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও। এছাড়াও ইজরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতরা সরাসরি এই শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন।

এডিটোরিয়াল নোট: ইজরায়েল-লেবানন সীমান্তে যখন বারুদের গন্ধ ছড়িয়ে আছে, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মধ্যস্থতা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির নতুন মানচিত্র তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর দুই দেশ কি পারবে তিক্ততা ভুলে হাতে হাত মেলাতে? উত্তর মিলবে আগামীকালের সেই ঐতিহাসিক বৈঠকেই।