বদ্রীনাথ ধামের দরজা খুলতে লাগে ৩টি চাবি! ২০২৬-এ কবে খুলছে মন্দির? জেনে নিন ৪টি অজানা রহস্য

হিন্দুধর্মের পবিত্র চার ধামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ তীর্থ হল উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ ধাম। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই মন্দিরের রহস্য এবং ঐতিহ্য যুগে যুগে ভক্তদের বিস্মিত করেছে। প্রতি বছর শীতের প্রকোপে ৬ মাস বন্ধ থাকার পর ফের ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয় এই মন্দিরের দ্বার। ২০২৬ সালে কবে খুলছে মন্দির এবং এর নেপথ্যে থাকা কিছু রোমাঞ্চকর তথ্য জেনে নিন।
১. ২০২৬-এ কবে খুলছে মন্দিরের দ্বার?
শীতকালীন বিরতি কাটিয়ে ২০২৬ সালে বদ্রীনাথ মন্দিরের দরজা জনসাধারণের জন্য খোলা হবে ২৩শে এপ্রিল। অক্ষয় তৃতীয়ার আশেপাশে প্রতি বছর এই পবিত্র দিনটি স্থির করা হয়, যা চার ধাম যাত্রার সূচনালগ্ন হিসেবে বিবেচিত।
২. তিনটি চাবির রহস্য:
বদ্রীনাথ মন্দিরের দরজা কোনো সাধারণ চাবিতে খোলে না। রীতি অনুযায়ী, এই মন্দির খুলতে তিনটি আলাদা চাবির প্রয়োজন হয়। অবাক করা বিষয় হল, এই চাবিগুলি একক কোনো ব্যক্তির কাছে থাকে না। প্রথা মেনে চাবিগুলি থাকে:
-
তেহরি রাজপরিবারের কুল পুরোহিত।
-
মেহতা পরিবার।
-
ভান্ডারী পরিবার। এই তিন পক্ষের উপস্থিতিতেই মন্দিরের গর্ভগৃহের তালা খোলা সম্ভব।
৩. সবার আগে প্রবেশের অধিকার কার?
মন্দির খোলার পর যে কেউ চাইলেই প্রথমে ঢুকতে পারেন না। শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে সবার আগে মন্দিরে প্রবেশ করেন রাওয়াল বা প্রধান পুরোহিত। তিনি গর্ভগৃহে প্রবেশ করে শুদ্ধিকরণ ও প্রাথমিক পূজা সম্পন্ন করার পরই সাধারণ ভক্তদের জন্য দর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়।
৪. কেন এই স্থানের নাম ‘বদ্রীনাথ’?
পৌরাণিক কথা অনুসারে, ভগবান বিষ্ণু যখন এই স্থানে কঠোর তপস্যা করছিলেন, তখন তাঁর শরীর তুষারপাতে ঢাকা পড়ে যাচ্ছিল। সেই সময় দেবী লক্ষ্মী একটি বিশাল বদ্রী (কুল) গাছের রূপ ধারণ করে বিষ্ণুকে রক্ষা করেন। লক্ষ্মীর এই ত্যাগ দেখে বিষ্ণু তুষ্ট হন এবং বর দেন যে, এই স্থানটি তাঁর ও লক্ষ্মীর মিলিত নাম ‘বদ্রীনাথ’ (বদ্রী গাছের নাথ বা স্বামী) হিসেবে পরিচিত হবে।
দর্শনীয় মূর্তি ও তাৎপর্য:
বদ্রীনাথ মন্দিরে ভগবান বিষ্ণুর এক মিটার উঁচু একটি কৃষ্ণবর্ণের ধ্যানরত মূর্তি রয়েছে। এছাড়াও এখানে কুবের দেব এবং লক্ষ্মী-নারায়ণের মূর্তিও পূজিত হয়। এটি ‘পঞ্চবদ্রী’-র প্রধান কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত।