“বাইরে থেকে এসে হোটেলে বসে আছে…” আলিপুরদুয়ারে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ মমতার! কীসের ইঙ্গিত দিলেন দিদি?

হাতে মাত্র আর এক সপ্তাহ। আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। তার ঠিক আগেই রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বড় পদক্ষেপ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ২০০টিরও বেশি স্থানকে ‘হিংসাপ্রবণ’ বা স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন।
কমিশনের কড়া নির্দেশ: নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই এলাকাগুলোতে অতীতে নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার রেকর্ড রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DM), পুলিশ সুপার (SP) এবং পুলিশ কমিশনারদের (CP) এই নির্দিষ্ট এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করার এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম দফার রণক্ষেত্র: প্রথম দফায় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একগুচ্ছ জেলায় ভোট হতে চলেছে। তালিকায় রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, মালদহ, দুই দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, দুই মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং বীরভূমের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলো।
আলিপুরদুয়ারে মমতার হুঁশিয়ারি: ভোটের আগে বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারে নির্বাচনী জনসভা থেকে বিজেপিকে একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনআরসি (NRC) এবং আসন পুনর্বিন্যাস ইস্যু তুলে ধরে তিনি ভোটারদের সতর্ক করেন। মমতা বলেন:
“বিজেপিকে ভোট দিয়ে কাজ হবে না, ওরা শুধু অধিকার হরণ করবে। আসন পুনর্বিন্যাসের নামে এনআরসি করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেবে।”
‘বহিরাগত’ তত্ত্বে শান: এদিন পুনরায় ‘বহিরাগত’ তত্ত্বে শান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান বা মধ্যপ্রদেশ থেকে বিজেপি লোক এনে রাজ্যের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্ট হাউসে বসিয়ে রেখেছে। ভোটারদের টাকা দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর পরামর্শ, “টাকা দিলে নিয়ে ওদের ফাঁকা করে দিন, কিন্তু ভোট দেবেন না।”
নির্বাচনী ক্যালেন্ডার:
-
প্রথম দফা: ২৩ এপ্রিল
-
দ্বিতীয় দফা: ২৯ এপ্রিল
-
ফলাফল: ৪ মে
বাংলা ও তামিলনাড়ুসহ মোট পাঁচটি রাজ্যের নির্বাচনী রায় জানা যাবে আগামী ৪ মে। এখন দেখার, কমিশনের এই কড়াকড়ি এবং রাজনৈতিক নেতাদের এই আক্রমণাত্মক প্রচার ভোটের বাক্সে কী প্রভাব ফেলে।