ভোটের মুখে ধাক্কা! অফিসার বদলি মামলায় রাজ্যকে ফিরিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট, জানুন কী বললেন প্রধান বিচারপতি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বড়সড় আইনি ধাক্কা খেল রাজ্য প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যের একাধিক আইএএস (IAS) ও আইপিএস (IPS) আধিকারিকের গণ-বদলির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আইনজীবী অর্ক নাগ। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই মামলা শুনতেই চাইল না শীর্ষ আদালত। সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো, কমিশনের সিদ্ধান্তে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না আদালত।

আদালতে উত্তপ্ত সওয়াল-জবাব: এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চালির বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। মামলাকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন যে, এর আগের নির্বাচনগুলিতে অফিসার বদলির ক্ষেত্রে রাজ্যের পরামর্শ নেওয়া হতো, কিন্তু এবার সেই রীতি মানা হয়নি। এমনকি তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারির পর প্রায় ১১০০ জন আধিকারিককে ‘এক রাতের মধ্যে’ বদলে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিবকে বদলি করার প্রসঙ্গটিও তিনি আদালতের সামনে তুলে ধরেন।

কড়া বার্তা প্রধান বিচারপতির: আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়ালের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন:

“রাজ্যের যেমন নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা নেই, তেমনই কমিশনেরও রাজ্যের নিযুক্ত আধিকারিকদের ওপর বিশ্বাস নেই। আর সেই অবিশ্বাসের কারণেই আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”

আদালত আরও স্পষ্ট করে দেয় যে, আধিকারিকদের রাজ্যের বাইরে পাঠানো হয়নি, বরং রাজ্যের ভেতরেই এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। আইনের কোথাও বলা নেই যে কমিশনকে বদলির ক্ষেত্রে রাজ্যের পরামর্শ নিতেই হবে।

কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল: এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চও এই জনস্বার্থ মামলাটি খারিজ করে দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট এদিন কার্যত হাইকোর্টের সেই সিদ্ধান্তকেই মান্যতা দিল।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ২৯৪ আসনবিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল—দুই দফায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ভোট গণনা হবে ৪ মে। নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে কমিশনের কড়া অবস্থান এবং সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে শাসক শিবিরের অস্বস্তি বাড়ল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের বিশেষজ্ঞরা।