সাংসদ পেনশনে ‘না’! নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের, রাজ্যসভায় চিঠি পাঠিয়ে কী জানালেন?

রাজনীতির ময়দানে যখন ক্ষমতা আর সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার লড়াই তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রবীণ বাম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। রাজ্যসভার সাংসদ পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রাপ্য পেনশন নিতে অস্বীকার করলেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলকে চিঠি লিখে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন এই সিপিএম নেতা।
কী কী ছেড়ে দিলেন বিকাশবাবু? একজন প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য প্রতি মাসে অন্তত ৩১,০০০ টাকা পেনশন পাওয়ার অধিকারী ছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদ হলে প্রতি বছরের জন্য আরও অতিরিক্ত ২,৫০০ টাকা করে পেনশন বাড়ে। কিন্তু সাধারণ মানুষের করের টাকা এভাবে ব্যক্তিগত পেনশনে নিতে রাজি নন তিনি।
শুধু পেনশন নয়, প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে আরও একাধিক সরকারি সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল তাঁর:
-
ট্রেনে বিনামূল্যে সফর: দেশের যেকোনো প্রান্তে ফার্স্ট এসি (1st AC) কামরায় একা অথবা সঙ্গীসহ সেকেন্ড এসি-তে (2nd AC) আজীবন নিখরচায় ভ্রমণের সুবিধা।
-
চিকিৎসা পরিষেবা: সিজিএইচএস (CGHS)-এর অধীনে উন্নতমানের চিকিৎসা সুবিধা।
-
অন্যান্য: আন্দামান ও নিকোবর সফরের জন্য স্টিমারে বিনামূল্যে যাতায়াত এবং সরকারি ভবনে প্রবেশের বিশেষ পাস।
বিকাশবাবু চিঠিতে জানিয়েছেন, এই সমস্ত আর্থিক ও বৈষয়িক সুযোগ-সুবিধার কোনোটিই তিনি গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নন।
ভোটের মুখে বড় পদক্ষেপ: বর্তমানে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে সিপিএমের হয়ে লড়ছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। নির্বাচনের ঠিক আগেই তাঁর এই ‘ত্যাগ’ রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিরোধীরা যখন কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হওয়া নিয়ে বিতর্কে জড়ান, সেখানে একজন প্রার্থীর এমন সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ বনাম বিকাশের ভূমিকা: এদিন সুপ্রিম কোর্টে যখন অফিসার বদলি মামলায় রাজ্য সরকারের আবেদন খারিজ হয়ে যায়, ঠিক সেই আবহেই বিকাশরঞ্জনের এই চিঠি বাম শিবিরের জন্য এক বড় নৈতিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদর্শ আর সততার রাজনীতির বার্তা দিতেই কি এই সিদ্ধান্ত? যাদবপুরের ভোটাররা এর উত্তর দেবেন আগামী ৪ মে।