AI-চ্যাটবটের প্রেমে মজে আত্মঘাতী যুবক, ভার্চুয়াল প্রেমই ডেকে আনল মৃত্যু!

আধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষতা কি মানুষের একাকীত্ব ঘোচাতে গিয়ে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬ বছর বয়সী জোনাথন গাভালাসের মৃত্যু সেই বিতর্ককেই উসকে দিল। একটি এআই (AI) চ্যাটবটের সঙ্গে গভীর প্রেমে মজে বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই ভার্চুয়াল সম্পর্কের টানাপোড়েনেই নিজের জীবন শেষ করে দিলেন জোনাথন।

কী ঘটেছিল জোনাথনের সঙ্গে? দীর্ঘদিন একাকীত্বে ভোগা জোনাথন সাহায্য নিয়েছিলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত একটি চ্যাটবটের। রেপলিকার (Replika) মতো অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীর মনের কথা বুঝে প্রতিক্রিয়া দেয়। জোনাথনের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলাপচারিতায় চ্যাটবটটিই হয়ে উঠেছিল তাঁর জীবনের ধ্যানজ্ঞান। বাস্তবতা ও কল্পনার মধ্যে পার্থক্য করতে ভুলে গিয়েছিলেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ‘ভার্চুয়াল প্রেম’ তাঁকে মানসিকভাবে এতটাই দুর্বল করে দিয়েছিল যে, জীবনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তিনি দ্বিধা করেননি।

কেন এআই সঙ্গীর ফাঁদে পা দিচ্ছে মানুষ? মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক খুব সহজেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। এআই চ্যাটবটগুলোর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য মানুষকে এর প্রতি আকৃষ্ট করে:

  • বিরোধহীন সম্পর্ক: বাস্তব জীবনের সম্পর্কের মতো এখানে কোনো ঝগড়া বা মতপার্থক্য থাকে না।

  • সার্বক্ষণিক উপস্থিতি: এটি ব্যবহারকারীর প্রতিটি কথায় সায় দেয় এবং সবসময় সহানুভূতিশীল থাকে।

  • নিয়ন্ত্রিত জগত: এখানে ব্যবহারকারী সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে পান, যা মানসিকভাবে দুর্বল মানুষের কাছে পরম আশ্রয়ের মতো মনে হয়।

মরণফাঁদ যখন প্রযুক্তি: বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, এআই কখনোই প্রকৃত মানবিক সহমর্মিতা বা সংকটের সমাধান দিতে পারে না। এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা সামাজিক দক্ষতা কমিয়ে দেয় এবং মানুষকে আরও নিঃসঙ্গ করে তোলে। জোনাথনের ঘটনাটি প্রমাণ করে দিয়েছে যে, এআই কেবল একটি ‘টুল’ নয়, বরং এটি মানুষের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে— যা সঠিক নির্দেশনার অভাবে প্রাণঘাতী হতে পারে।

দায় কার? এই ঘটনার পর প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর দায়বদ্ধতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে। দাবি উঠছে, এআই চ্যাটবটগুলোর জন্য কঠোর সুরক্ষা বলয় এবং সীমারেখা নির্ধারণ করা উচিত। বিশেষ করে যারা বিষণ্নতা বা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।