জালিম সিং, শয়তান না কি ঘাসিতা রাম! রাজস্থানের স্কুলে বাচ্চাদের জন্য ৩০০০ নামের আজব তালিকা, তুঙ্গে বিতর্ক

রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ার ফের একবার তাঁর ‘উদ্ভট’ সিদ্ধান্তের জন্য সংবাদ শিরোনামে। এবার সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের নাম বদলানোর এক বিশাল পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হয়েছেন তিনি। শিক্ষা দপ্তর থেকে ৩০০০টি ‘অর্থপূর্ণ’ নামের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যা দেখে চোখ কপালে উঠেছে অভিভাবক থেকে শুরু করে বিরোধী দলের নেতাদেরও।
তালিকায় ‘শয়তান’ থেকে ‘মাক্কি-মাখান’!
শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে প্রথম থেকে নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের ‘অদ্ভুত’ নাম বদলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষা দপ্তর যে বিকল্প নামের তালিকা প্রকাশ করেছে, তা আরও বেশি অদ্ভুত।
-
ছেলের জন্য প্রস্তাবিত নাম: জালিম সিং, শের, অহঙ্কার, উগরা সিং, জয়চাঁদ, ঘাসিতা রাম, শয়তান, মাক্কি, দহি ভাই, বেচারা দাস। এমনকি রামপ্যারি, গোদাবরী বা গঙ্গোত্রীর মতো মেয়েলি নামও রাখা হয়েছে ছেলেদের তালিকায়!
-
মেয়ের জন্য প্রস্তাবিত নাম: অর্ধাঙ্গিনী, কালযুগী, কৈকেয়ী, রক্ষাবন্ধন, অহিংসা, মনোরঞ্জিনী।
অভিযোগ উঠেছে, এই তালিকার এক-চতুর্থাংশ নামেই বানানে ভুল এবং ব্যাকরণগত ত্রুটি রয়েছে। এমনকি মুসলিম মেয়েদের নামের পাশে ‘সিং’ পদবি ব্যবহারের মতো হাস্যকর ভুলও ধরা পড়েছে।
মূল সমস্যা থেকে কি নজর ঘোরানোর চেষ্টা?
রাজস্থানের সরকারি স্কুলগুলোর অবস্থা যখন অত্যন্ত জরাজীর্ণ, তখন এই ‘নাম বদল’ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
-
শূন্যপদ: রাজ্যে প্রায় দেড় লক্ষ শিক্ষকের পদ খালি।
-
স্কুল ভবন: প্রায় ৮৩,০০০ শ্রেণিকক্ষ এতটাই ভাঙাচোরা যে সেখানে বাচ্চাদের বসানো অসম্ভব।
-
ছাত্রসংখ্যা: সরকারি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ১ কোটি থেকে কমে ৭০ লক্ষে দাঁড়িয়েছে।
কংগ্রেস নেতা প্রতাপ সিং খাচরিয়াবাস এবং বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, স্কুল সংস্কারের জন্য যেখানে ২০,০০০ কোটি টাকা প্রয়োজন, সেখানে বাজেটে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১,০০০ কোটি। এই ব্যর্থতা ঢাকতেই কি নামের তালিকা নিয়ে ‘নাটক’ চলছে?
[Image: AI-generated picture showing confused children in a dilapidated classroom with a board of funny names]
বিতর্কের রাজা মদন দিলাওয়ার!
এটিই প্রথম নয়, এর আগেও মদন দিলাওয়ার একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন: ১. বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনকে ‘বীরত্ব দিবস’ হিসেবে পালনের নির্দেশ। ২. পাঠ্যবই থেকে সম্রাট আকবরের নাম বাদ দেওয়া। ৩. নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধীর আমলের শিক্ষা সংস্কার বিষয়ক বই নিষিদ্ধ করা।
আপনার কি মনে হয়? জরাজীর্ণ স্কুলের ভবন মেরামতির চেয়ে নাম পরিবর্তন কি বেশি জরুরি? রাজস্থান সরকারের এই পদক্ষেপকে আপনি কীভাবে দেখছেন? কমেন্টে জানান আপনার মতামত।