ক রাতে মিটবে না দীর্ঘদিনের শত্রুতা! দ্বিতীয় শান্তি বৈঠকের আগে ইরানকে কড়া বার্তা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের

দীর্ঘ কয়েক দশকের শত্রুতা কি এক টেবিলে বসলেই মিটে যায়? ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বহুল চর্চিত দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকের ঠিক আগেই এই প্রশ্ন তুলে দিলেন খোদ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইসলামাবাদে যখন ফের দুই দেশের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই ভ্যান্সের এই মন্তব্য নতুন করে জল্পনা উস্কে দিল।
এক রাতে সম্ভব নয় মিটমাট: জেডি ভ্যান্স
মঙ্গলবার রাতে এক সাংবাদিক বৈঠকে সরাসরি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান:
“ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের যে গভীর অবিশ্বাস রয়েছে, তা এক রাতের মধ্যে মিটিয়ে ফেলা সম্ভব নয়।”
ভ্যান্সের এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, শান্তি আলোচনার পথে যে অনেক চড়াই-উতরাই রয়েছে, মার্কিন প্রশাসন তা আগেভাগেই স্পষ্ট করে রাখল।
বৃহস্পতিবারই কি মেগা বৈঠক?
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী দুই দিনের মধ্যে ফের আলোচনা শুরু হতে পারে। সব ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবারই ইসলামাবাদের মাটিতে সরাসরি কথা বলতে পারেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। এই বৈঠকের নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের দরাজ প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প।
প্রথম বৈঠকে কেন ভেস্তে গিয়েছিল চুক্তি?
ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে প্রথম দফার বৈঠক চলেছিল টানা ২১ ঘণ্টা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে যায়। জানা গেছে:
-
৮০% কাজ সম্পন্ন: বৈঠকের অধিকাংশ শর্তে দুই দেশ একমত হয়েছিল।
-
শেষ মুহূর্তের মতভেদ: কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে জট না খোলায় চুক্তি সই হয়নি।
-
বিশাল প্রতিনিধিদল: ইরানের তরফে বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মার্কিন দলে জেডি ভ্যান্স ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন।
[Image: J.D. Vance speaking at a press conference with the US flag in the background]
১৯৭৯-এর পর এই প্রথম!
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর এই প্রথম দুই দেশ এত উচ্চপর্যায়ে সরাসরি আলোচনায় বসছে। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এই বৈঠক নিয়ে গোটা বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদের দিকে। একদিকে ট্রাম্পের শান্তিপ্রচেষ্টা, অন্যদিকে জেডি ভ্যান্সের সতর্কবার্তা— সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সূর্য উঠবে কি না, তা এখন বৃহস্পতিবারের বৈঠকের ওপরই নির্ভর করছে।
আপনার কি মনে হয়? ট্রাম্প ও ইরানের মধ্যে এই শান্তি বৈঠক কি সফল হবে? কমেন্টে জানান আপনার মতামত।