হরমুজ খুলে দিলেন ট্রাম্প! শি জিনপিংয়ের কাছে চাইলেন ‘উষ্ণ আলিঙ্গন’, তবে শর্ত একটাই!

বিশ্ব রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড়! দীর্ঘ উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে পাকাপাকিভাবে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলে দেওয়ার ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই ঘোষণার পেছনে কেবল বাণিজ্যিক কারণ নয়, বরং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বের এক নতুন সমীকরণ গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের এই বার্তা এখন আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

জিনপিংয়ের কাছে ট্রাম্পের ‘আবদার’

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ট্রাম্প সরাসরি চিনকে বন্দনা করে লিখেছেন:

“চিন অত্যন্ত খুশি যে আমি পাকাপাকিভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দিচ্ছি। এটা যেমন বাকি দুনিয়ার জন্য করছি, তেমনি ওদের (চিন) জন্যও। প্রেসিডেন্ট শি, কয়েক সপ্তাহ পর যখন দেখা হবে, আমাকে একটা জোরালো আলিঙ্গন (Big Hug) করতে ভুলবেন না যেন!”

ট্রাম্পের এই ‘আলিঙ্গন’ বার্তার পেছনে রয়েছে এক বড় শর্ত। তিনি দাবি করেছেন, বেজিং রাজি হয়েছে যে তারা ইরানকে আর কোনো সমরাস্ত্র সরবরাহ করবে না। আগামী ১৪ ও ১৫ মে বেজিং সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প, তার আগেই এই চাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।


ইরানের সঙ্গে কি তবে যুদ্ধ শেষ?

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে সামরিকভাবে কার্যত গুঁড়িয়ে দিয়েছে আমেরিকা। তাঁর দাবি:

  • ইরান এখন পতনের মুখে, নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে ওদের ২০ বছর সময় লাগবে।

  • যুদ্ধের সমাপ্তি এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

  • বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিলে ইরান পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে যাবে।


কেন হরমুজ প্রণালী এত গুরুত্বপূর্ণ?

হরমুজ প্রণালী হলো বিশ্বের জ্বালানি তেলের প্রধান রুট। এই পথ বন্ধ থাকায় ভারতসহ বহু দেশের অর্থনীতি চাপে পড়েছিল। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে তেলের বাজারে বড়সড় স্বস্তি ফিরতে পারে। চিন প্রথম থেকেই এই অবরোধের বিরোধিতা করে আসছিল এবং একে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ’ বলে তোপ দেগেছিল। এখন সেই চিনের মন পেতেই ট্রাম্পের এই নমনীয় মনোভাব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

[Image: Donald Trump and Xi Jinping shaking hands or a map of the Strait of Hormuz]


লড়াই বনাম বুদ্ধি: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

চিনকে বন্ধুত্বের বার্তা দিলেও নিজের মেজাজ হারাননি ট্রাম্প। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, “একসঙ্গে বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করা লড়াইয়ের চেয়ে অনেক ভালো। তবে মনে রাখা দরকার, আমরা লড়াই করতেও দক্ষ এবং প্রয়োজন পড়লে সবাইকে ছাপিয়ে যেতে পারি।”

চিন এখনও ট্রাম্পের এই বার্তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে বেজিং সফরের আগে ট্রাম্পের এই ‘হরমজ কার্ড’ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কোনো জোটের ইঙ্গিত কি না, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।