তৃণমূল জমানার শেষ ঘণ্টা কি বেজে গেল? বর্ধমানে পা রেখেই মমতাকে কড়া হুঁশিয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বঙ্গ রাজনীতিতে এখন চড়া সুর। বুধবার পূর্ব বর্ধমানে প্রচারে এসে সেই পারদ আরও কয়েক ধাপ চড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তথা বিজেপি নেত্রী নির্মলা সীতারমণ। তাঁর দাবি, বাংলার সাধারণ মানুষ এবার আর অন্দরে নয়, বরং প্রকাশ্যেই পরিবর্তনের দাবি তুলছেন। ২০১৬ সালের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টেনে বড় ভবিষ্যদ্বাণী করলেন মোদী সরকারের এই হেভিওয়েট মন্ত্রী।

মানুষ এবার পরিবর্তনের জন্য মরিয়া: নির্মলা

বর্ধমানের মাটিতে পা রেখেই তৃণমূল সরকারকে তোপ দেগে নির্মলা সীতারমণ বলেন:

“আমি ২০১৬ সালেও বাংলায় প্রচারে এসেছিলাম। কিন্তু এবার যা দেখছি, তা সম্পূর্ণ আলাদা। মানুষ এখন অনেক বেশি খোলাখুলি বলছেন যে তাঁরা ভালো নেই। বাংলার মানুষ এখন পরিবর্তনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন।”

তাঁর মতে, প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এতটাই যে, তাঁরা এখন সরাসরি নিজেদের সমস্যার কথা বলছেন এবং আরও উন্নত ও স্বচ্ছ প্রশাসনের দাবি তুলছেন।


বিজেপির পালে হাওয়া?

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, বিজেপির শীর্ষ নেতারা যখনই বাংলায় আসছেন, সাধারণ মানুষের থেকে যে অভূতপূর্ব সাড়া মিলছে, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি মনে করেন, মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এবার নবান্নে পরিবর্তনের হাওয়া নিশ্চিত।


চা-শ্রমিক ও বকেয়া নিয়ে মোক্ষম চাল

শুধু পরিবর্তনের ডাক দেওয়াই নয়, লোকসভার প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলকে আরও এক দফা আক্রমণ করেন নির্মলা। তাঁর অভিযোগ:

  • চা-শ্রমিকদের বঞ্চনা: উত্তরবঙ্গের প্রায় ৩ লক্ষ ৭৯ হাজার চা-শ্রমিককে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে মমতা সরকার।

  • অন্যায় আচরণ: তৃণমূল সরকার চা-শ্রমিকদের প্রাপ্য অধিকার নিয়ে রাজনীতি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।


ভোটের আগেই কি ব্যাকফুটে তৃণমূল?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্ধমানের মতো কৃষিপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা থেকে নির্মলা সীতারমণের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যখন বকেয়া ডিএ নিয়ে সরকারি কর্মচারীরা সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করছেন, ঠিক তখনই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর এই ‘পরিবর্তন’ কার্ড বিজেপি কর্মীদের বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে।

২০২৬-এর মহাযুদ্ধে বাংলার রায় শেষ পর্যন্ত কার দিকে যাবে? নির্মলার ভবিষ্যদ্বাণী কি সত্যিই মিলবে? নজর থাকবে আমাদের পাতায়।