ইউ-টার্ন পাকিস্তানের! নিষিদ্ধ ক্রিপ্টোকারেন্সি এখন বৈধ, ঐতিহাসিক পদক্ষেপে কাঁপছে ডিজিটাল বাজার।

নিষিদ্ধ থেকে সোজাসুজি বৈধ! ক্রিপ্টোকারেন্সির দুয়ার খুলে দিল পাকিস্তান; গঠিত হলো নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা
ইসলামাবাদ: দক্ষিণ এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তন! দীর্ঘদিনের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ভার্চুয়াল অ্যাসেট বা ডিজিটাল সম্পদের ব্যবহারকে আইনি বৈধতা দিল পাকিস্তান। ‘ভার্চুয়াল অ্যাসেটস অ্যাক্ট ২০২৬’ প্রণয়নের মাধ্যমে দেশটি তাদের আর্থিক খাতের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।
তৈরি হলো শক্তিশালী পিভিএআরএ (PVARA)
স্টেট ব্যাংক অফ পাকিস্তান (SBP) এই আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘পাকিস্তান ভার্চুয়াল অ্যাসেট রেগুলেটরি অথরিটি’ (PVARA) নামক একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। এই সংস্থার কাজ হবে:
-
দেশে ভার্চুয়াল অ্যাসেট সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রমের লাইসেন্স প্রদান করা।
-
ডিজিটাল মুদ্রার লেনদেন নিয়ন্ত্রণ ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা।
-
ফিনটেক সংস্থাগুলোর ওপর কড়া নজরদারি বজায় রাখা।
ব্যাংকিং চ্যানেলে স্বাগত ডিজিটাল মুদ্রা
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা এক বিশেষ সার্কুলারে বলা হয়েছে, এখন থেকে এসবিপি-নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানগুলো “ভার্চুয়াল অ্যাসেট সার্ভিস প্রোভাইডার” (VASP) হিসেবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে। এর ফলে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ, ডিজিটাল ওয়ালেট এবং ফিনটেক প্ল্যাটফর্মগুলো এখন থেকে পাকিস্তানের মূলধারার ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যবহার করার আনুষ্ঠানিক অধিকার পেল।
অবিলম্বে কার্যকর: কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই নির্দেশিকাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে, যা পাকিস্তানে ডিজিটাল সম্পদের ব্যবসার জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিক আইনি কাঠামো তৈরি করল।
কেন এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত?
এতদিন পর্যন্ত ক্রিপ্টোকারেন্সির বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর। ব্যাংকিং চ্যানেলগুলো এই ধরনের ব্যবসার জন্য কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু নতুন এই আইন সবকিছু বদলে দিল:
-
প্রবাসী পাকিস্তানিদের সুবিধা: বিদেশে বসবাসকারী পাকিস্তানিরা এখন থেকে ডিজিটাল মুদ্রায় লেনদেন করতে পারবেন।
-
বাণিজ্যিক বিস্তার: আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় ডিজিটাল সম্পদের ব্যবহার এখন আইনি স্বীকৃতি পেল।
-
ফিনটেক বিপ্লব: লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্ল্যাটফর্মগুলো এখন সরাসরি আইনি সুরক্ষায় ব্যবসা চালাতে পারবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট জর্জরিত পাকিস্তান এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে ডিজিটাল সম্পদের এই অবাধ ব্যবহার দেশের মুদ্রাস্ফীতি ও নিরাপত্তা বলয়ে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।