ভোটের আগে রণক্ষেত্র আটকাতে কড়া কমিশন! জেলায় জেলায় নামছে বিশাল বাহিনী, কোথায় কত?

দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। এই দফায় শান্তি বজায় রাখতে এবং ‘নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা’ সুনিশ্চিত করতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। জেলাওয়ারি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে— নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও আপস নয়।
কবে নাগাদ মোতায়েন?
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে বাহিনী মোতায়েন বা ‘ইন্ডাকশন’-এর কাজ শুরু হবে। ২০ এপ্রিলের মধ্যে রাজ্যের নির্ধারিত সমস্ত জেলা ও পুলিশ জেলাগুলিতে বাহিনী পৌঁছানোর প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। প্রতিটি জেলায় একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যিনি বাহিনীর যাবতীয় গতিবিধির ওপর নজর রাখবেন।
জেলায় জেলায় বাহিনীর বহর (একনজরে বড় পরিসংখ্যান):
কমিশনের তালিকা অনুযায়ী, সবথেকে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে এবং মুর্শিদাবাদে।
| জেলা / পুলিশ জেলা | বাহিনীর সংখ্যা (কোম্পানি) |
| পূর্ব মেদিনীপুর | ২৭৩ |
| পশ্চিম মেদিনীপুর | ২৭১ |
| মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলা | ২৪০ |
| বাঁকুড়া | ১৯৩ |
| বীরভূম | ১৭৬ |
| মালদা | ১৭২ |
| কোচবিহার | ১৪৬ |
| পুরুলিয়া | ১৫১ |
এছাড়াও উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং (৬১), শিলিগুড়ি (৪৪), জলপাইগুড়ি (৯২) এবং আলিপুরদুয়ারে (৭৭) কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকবে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকবে ১২৫ কোম্পানি বাহিনী।
কমিশনের কড়া গাইডলাইন:
-
অস্ত্রসহ নজরদারি: সাব-ইন্সপেক্টর এবং তার ঊর্ধ্বতন স্তরের অফিসারদের সব সময় অস্ত্র সঙ্গে রাখতে হবে। কনস্টেবল ও অন্যান্য বাহিনীকে হেলমেট ও লাঠি-সহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখতে হবে।
-
যৌথ টহল: কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) এবং রাজ্য পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।
-
নো-টলারেন্স: জনবহুল এলাকায় নিরাপত্তার কোনও খামতি বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি থানার অধীনে আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটের দিন ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে বুথে পৌঁছাতে পারেন, তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই ‘এরিয়া ডোমিনেশন’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।