ভোটের মুখে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বড় ধামাকা? কেন অ্যাকাউন্টে দু’বার টাকা ঢুকছে, খুশির খবর না কি অন্য কিছু?

নির্বাচনের ঠিক মুখে বাংলার মহিলাদের প্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে এক নয়া গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। এপ্রিল মাসে অনেক উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দু’বার টাকা আসায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দিকে দিকে প্রশ্ন উঠছে— মমতা সরকার কি তবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা দ্বিগুণ করে ৩০০০ টাকা করে দিল?
কেন এই জল্পনা? রাজ্য বাজেটে ঘোষণার পর লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ইতিমধ্যেই বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে সাধারণ জাতি ১০০০ টাকা পেত, এখন তারা পাচ্ছে ১৫০০ টাকা। আর তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের ভাতা ১২০০ থেকে বাড়িয়ে ১৭০০ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু চলতি মাসে অনেকেই দুটি আলাদা কিস্তিতে টাকা পেয়েছেন (যেমন— প্রথমে ১০০০, পরে ৫০০)। এই দুই কিস্তির বিষয়টিকে ঘিরেই অনেকের ধারণা জন্মেছে যে ভাতা বোধহয় আরও বাড়ছে।
৩০০০ টাকার নেপথ্যে ‘রাজনৈতিক টক্কর’: এই গুঞ্জন আরও জোরালো হওয়ার পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক লড়াই। বিজেপি আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা ক্ষমতায় এলে এই ভাতা বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করবে। ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, তবে কি ভোটের আগেই মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে ভাতা বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করে দিল শাসক দল?
আসল সত্যিটা কী? প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, ভাতা ৩০০০ টাকা হওয়ার খবরটি আপাতত কেবলই একটি গুঞ্জন। প্রকৃতপক্ষে, বর্ধিত ভাতার টাকা (অতিরিক্ত ৫০০ টাকা) অনেক ক্ষেত্রে আলাদা করে অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে বলেই দু’বার মেসেজ বা টাকা পাচ্ছেন মহিলারা। রাজ্য সরকার নতুন করে আর ভাতা বৃদ্ধির কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও পর্যন্ত করেনি।
একনজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
-
সাধারণ জাতি: ১০০০ + ৫০০ = ১৫০০ টাকা।
-
তপশিলি জাতি/উপজাতি: ১২০০ + ৫০০ = ১৭০০ টাকা।
-
কেন দু’বার টাকা: টেকনিক্যাল কারণে বা বকেয়া কিস্তির সমন্বয়ের জন্য এই মাসে দু’বার লেনদেন দেখা যাচ্ছে।
আপাতত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ১৫০০ এবং ১৭০০ টাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে। তবে ভোটের হাওয়ায় এই ৩০০০ টাকার গুঞ্জন যে বিরোধী ও শাসক— উভয় শিবিরের জন্যই বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা স্পষ্ট।