বিহারে নীতীশ জমানার অবসান, ‘কিং’ মেকার থেকে এবার ‘কিং’ বিজেপি; মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন সম্রাট চৌধুরী!

বিহারের রাজনীতিতে আজ এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন ঘটল। গত কয়েক দশক ধরে যে বিজেপি ‘কিংমেকার’ হিসেবে নীতীশ কুমারকে সমর্থন দিয়ে আসছিল, তারাই এখন প্রথমবারের মতো রাজ্যে ‘রাজা’ বা মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা গ্রহণ করল। নীতীশ কুমারের নাটকীয় পদত্যাগের পর বিজেপি বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন সম্রাট চৌধুরী। আজ বিকেলে রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইনের কাছে সরকার গঠনের দাবি পেশ করেছেন তিনি।
সরকারি সূত্রে খবর, আগামীকাল বুধবার, ১৫ই এপ্রিল সকাল ১১টায় পাটনার লোক ভবনে বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন সম্রাট চৌধুরী। এই মেগা অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বিজেপি ও এনডিএ শিবিরের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
নীতীশের বিদায় ও নতুন অধ্যায়: আজ দুপুর ৩টে ১৫ নাগাদ রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন নীতীশ কুমার। তবে বিদায়বেলায় কোনো তিক্ততা নয়, বরং সৌজন্যের নজির দেখা গেল। এনডিএ-র বৈঠকে নীতীশ নিজেই সম্রাট চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করেন এবং তাঁকে মালা পরিয়ে অভিনন্দন জানান। সম্রাট চৌধুরীও প্রবীণ নেতার পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন এবং স্বীকার করেন যে নীতীশের থেকেই তাঁর রাজনীতির হাতেখড়ি।
কারা থাকছেন নতুন মন্ত্রিসভায়? সম্রাট চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী হলেও উপ-মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা বিজয় কুমার সিনহা। তবে সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে নীতীশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমারের নাম, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে।
বিদায়ী মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। নীতীশ কুমার ২০০৫ সাল থেকে তাঁর করা উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন। এমনকি বর্ষীয়ান নেতা রামকৃপাল যাদবকেও সেই সময় চোখের জল মুছতে দেখা যায়। বিহার এখন নীতীশের ‘সমৃদ্ধ বিহার’-এর স্বপ্ন পূরণে সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে।