৮৫০ আসনের লোকসভা! ২৭৩টিতে শুধুই মহিলা! ২০২৯-এর আগে মোদী সরকারের ‘মাস্টারস্ট্রোক’

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই ভারতের সংসদীয় মানচিত্র বদলে দিতে চলেছে মোদী সরকার। মঙ্গলবার সামনে আসা একটি খসড়া বিল অনুযায়ী, লোকসভার বর্তমান আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৩টি আসন সরাসরি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ দ্রুত কার্যকর করতেই কেন্দ্রের এই অভাবনীয় উদ্যোগ।

বিশেষ অধিবেশন ও বড় পরিকল্পনা

এই ঐতিহাসিক বিলটি পাশ করানোর জন্য আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তিন দিনের বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডেকেছে কেন্দ্র। মঙ্গলবারই সাংসদদের হাতে বিলের কপি তুলে দেওয়া হয়েছে।

বিলের মূল প্রস্তাবগুলি হলো:

  • আসন বিন্যাস: মোট ৮৫০টি আসনের মধ্যে ৮১৫টি থাকবে রাজ্যগুলির জন্য এবং ৩৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য।

  • ডিলিমিটেশন কমিশন: কোন আসনগুলি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হবে, তা নির্ধারণ করতে একটি সীমা পুনর্নির্ধারণ কমিশন গঠন করা হবে।

  • ২০২৯-এর লক্ষ্য: আগে কথা ছিল ২০২৭-এর জনগণনার পর এটি কার্যকর হবে, কিন্তু সরকার এখন ২০১১-র তথ্য ব্যবহার করেই ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগে এটি বাস্তবায়িত করতে চায়।


প্রধানমন্ত্রী মোদীর কড়া বার্তা

সোমবার ‘নারী শক্তি বন্দন সম্মেলন’-এ প্রধানমন্ত্রী এই পদক্ষেপকে “২১ শতকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত” বলে অভিহিত করেছেন। মঙ্গলবার আম্বেদকর জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে তিনি বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেকে অনুরোধ করেন:

“নারীদের উন্নয়ন সংক্রান্ত এই উদ্যোগকে দলমত নির্বিশেষে সমর্থন করা সবার দায়িত্ব। এই বিল মহিলাদের স্বার্থে আনা হচ্ছে, তাই সবাই মিলে একে সমর্থন করুন।”

বিরোধীদের অবস্থান

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানিয়েছেন, দল এই বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা করে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। তবে হঠাৎ করে বিশেষ অধিবেশন ডাকা এবং বিলের কপি দেরিতে পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির।


এক নজরে ‘নারী শক্তি বন্দন’ সংশোধন:

বিষয় বর্তমান অবস্থা প্রস্তাবিত পরিবর্তন
লোকসভা আসন ৫৪৩ ৮৫০
মহিলা সংরক্ষণ ০% (আইন পাস হলেও কার্যকর নয়) ৩৩% (২৭৩টি আসন)
ভিত্তি নতুন জনগণনার অপেক্ষায় ২০১১-র জনগণনা অনুযায়ী দ্রুত কার্যকর
বিশেষ অধিবেশন ১৬-১৮ এপ্রিল, ২০২৬

কেন্দ্রের এই পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা ভারতের রাজনীতিতে মহিলাদের অংশগ্রহণকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তবে আসন সংখ্যা এক লাফে এত বাড়িয়ে দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।