পাহাড়ে বড়সড় ভাঙন! একঝাঁক যুব নেতাকে নিয়ে বিজেপিতে সুমন প্রধান, নির্বাচনের আগে ব্যাকফুটে শাসকদল

লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, পাহাড়ের রাজনীতির পারদ ততই চড়ছে। মঙ্গলবার দার্জিলিংয়ের লপচু এলাকায় এক বিশাল রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ঘর ভেঙে বড়সড় ধস নামাল বিজেপি। দার্জিলিংয়ের সাংসদ তথা বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র রাজু বিস্তার হাত ধরে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন একঝাঁক প্রভাবশালী ও যুব নেতৃত্ব।

তৃণমূল ছেড়ে কারা এলেন পদ্ম শিবিরে?

নির্বাচনের মুখে লপচু ও রঙ্গলি-রঙ্গলিয়াট ব্লকের এই দলবদল শাসকদলের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপিতে যোগদানকারী উল্লেখযোগ্য নামগুলি হলো:

  • সুমন প্রধান: লপচু পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য।

  • বুদ্ধ মোক্তান: তৃণমূল সিনকোনা প্ল্যান্টেশন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক।

  • বিএস রাই: রঙ্গলি-রঙ্গলিয়াট ব্লক তৃণমূলের সহ-সভাপতি।

  • দর্শন রাই: ব্লক যুব তৃণমূলের সহ-সভাপতি।

    এছাড়া ব্লক উপদেষ্টা ভানু দং-সহ একাধিক কর্মী-সমর্থক এদিন বিজেপির ঝাণ্ডা হাতে তুলে নেন।


“মানুষ এবার পরিবর্তন চাইছেন”: রাজু বিস্তা

নবাগতদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে রাজু বিস্তা বলেন:

“প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নমূলক কাজ এবং নেতৃত্বের ওপর ভরসা রেখেই পাহাড়ের যুবসমাজ আজ বিজেপিতে সামিল হচ্ছে। পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের মানুষ এবার তৃণমূলের দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়।”

সাংসদের দাবি, বিজেপির ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ মন্ত্রেই পাহাড়ের মানুষ একজোট হচ্ছেন এবং ২৩ এপ্রিলের ভোটে এর প্রতিফলন দেখা যাবে।

আইজিজেএফ-এও শক্তিবৃদ্ধি

একই দিনে পাহাড়ের রাজনীতিতে নিজেদের জমি শক্ত করল অজয় এডওয়ার্ডসের দল ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট (IGJF)। দার্জিলিংয়ের টর্জম মঙ্গর গ্রামের প্রায় ২৫টি পরিবার বিভিন্ন দল ত্যাগ করে আইজিজেএফ-এ যোগ দেয়। পাহাড়ে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে অজয় এডওয়ার্ডসই একমাত্র বিকল্প বলে দাবি করেছেন নবাগতরা।


এক নজরে পাহাড়ের বর্তমান পরিস্থিতি:

রাজনৈতিক মেরুকরণ প্রভাব
বিজেপিতে যোগদান তৃণমূলের সিনকোনা ইউনিয়ন ও ব্লক স্তরে বড় ধস।
সাংসদের ভূমিকা রাজু বিস্তার নেতৃত্বে প্রচার ও সংগঠনে বাড়তি অক্সিজেন।
IGJF-এর সক্রিয়তা অজয় এডওয়ার্ডসের দলেও নাম লেখাল ২৫টি পরিবার।
নির্বাচনী দিন আগামী ২৩ এপ্রিল পাহাড়ের ভাগ্য পরীক্ষা।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিজ্ঞ নেতাদের এই দলত্যাগ পাহাড়ের নির্বাচনী সমীকরণ বদলে দিতে পারে। ভোটের লড়াই যখন তুঙ্গে, তখন এই ভাঙন তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।