হিমাচলে দিনের আলোয় নৃশংসতা! কলেজ ছাত্রীকে কাস্তে দিয়ে কুপিয়ে খুন, শান্ত পাহাড়ে কেন ঝরল রক্ত?

দেবভূমি হিমাচল প্রদেশের শান্তি বিঘ্নিত করে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল মান্ডি জেলার গোপালপুর এলাকা। সোমবার সকাল সোয়া ৯টা নাগাদ সারকাঘাট কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী সিয়া গুলেরিয়াকে জনসমক্ষে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় গোটা রাজ্য জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।

ফোন কানেই শেষ আর্তনাদ!

ঘটনার সময় সিয়া তাঁর কলেজ বান্ধবী কাশিশের সাথে ফোনে কথা বলছিলেন। বাড়ি থেকে মাহি বাস স্টপের দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় সিয়া কাশিশকে বলেছিলেন, “আমি আর দুই মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাব।” তার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফোনের ওপার থেকে ভেসে আসে সিয়ার বুকফাঁটা আর্তনাদ। ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাশিশ দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছেন তাঁর প্রিয় বন্ধু।

ঘাতকের নৃশংসতা ও মাদক যোগ

পুলিশ এই ঘটনায় ৩৫ বছর বয়সী বিকাশ ওরফে রিশু পাটিয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে। পেশায় প্লাম্বার এই যুবক গোপালপুর তহসিলের ময়না গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগ, নির্জন রাস্তায় সিয়াকে একা পেয়ে ধারালো কাস্তে দিয়ে তাঁর গলায় একাধিকবার কোপ দেয় বিকাশ। সিয়া হাত দিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। গ্রামবাসীদের দাবি, বিকাশ একজন মাদকাসক্ত এবং সে সিন্থেটিক ড্রাগ বা ‘চিট্টা’ সেবন করত। ঘটনার পর জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় গ্রামবাসীরা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

বাবার কান্না: “পায়ের তলার মাটি সরে গেল”

সিয়ার বাবা যোগিন্দর গুলেরিয়া পেশায় একজন ট্রাক চালক। মেয়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “সকালেই কথা হলো, টাকা পাঠালাম। একটু পরেই জানলাম সব শেষ। ও বলত ছোট বোনকে নিজের কলেজে ভর্তি করবে, সংসারের হাল ধরবে।” মেধাবী সিয়া তাঁর পরিবারের তিন বোনের মধ্যে মেজো ছিলেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি মা ও ছোট বোনের দেখাশোনা করতেন।

সরব জনতা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনার প্রতিবাদে মান্ডির সারকাঘাট-ঘুমারউইন মহাসড়ক অবরোধ করে স্থানীয় মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় বাস পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ায় ছাত্রীদের দীর্ঘ পথ হেঁটে যাতায়াত করতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

  • উপমুখ্যমন্ত্রী মুকেশ অগ্নিহোত্রী: এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অপরাধীর কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন।

  • বিজেপি বিধায়ক রাকেশ জামওয়াল: ক্রমবর্ধমান মাদক সমস্যা ও ভেঙে পড়া আইন-শৃঙ্খলার দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি।

মান্ডির পুলিশ সুপার বিনোদ কুমার জানিয়েছেন, ঘটনার উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখতে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রাজ্য মহিলা কমিশনও এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে।