“শুরু হোক মদ, শুকনো নেশায় শেষ হচ্ছে বিহার!” সম্রাট মুখ্যমন্ত্রী হতেই নীতীশের খাস ‘বাহুবলী’র বিস্ফোরক দাবি!

বিহারের রাজনীতিতে আজ এক ঐতিহাসিক দিন। প্রথমবার বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সম্রাট চৌধুরীর নাম ঘোষণা হতেই রাজ্যের সমীকরণ ওলটপালট হতে শুরু করেছে। আর এই রাজনৈতিক পালাবদলের মাঝেই বিতর্কিত ও প্রভাবশালী নেতা, বিহারের ‘ছোটে সরকার’ অনন্ত সিং এমন এক দাবি তুললেন যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা রাজ্যে।

“শরাব চালু হওয়া উচিত”— বিতর্কিত দাবি অনন্তের

নীতীশ কুমারের আমলের সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত ছিল ‘মদ নিষিদ্ধকরণ’। কিন্তু সম্রাট চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ইঙ্গিত মিলতেই সেই আইনের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন অনন্ত সিং। তিনি সাফ জানান, বিহারে এবার মদের দোকান খুলে দেওয়া উচিত। তাঁর যুক্তি, “শরাব চালু হওয়া দরকার, কারণ শুকনো নেশা (ড্রাগস) সমাজকে শেষ করে দিচ্ছে। এটা খুব খারাপ দিকে যাচ্ছে।” নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি এই নিয়ে কথা বলবেন কি না জানতে চাইলে অনন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “উনি সিএম থাকলে কথা তো হবেই।”

নিশান্ত কুমারকে নিয়ে মাস্টারস্ট্রোক?

রাজনীতিতে বড় চমক দিয়ে অনন্ত সিং দাবি তুলেছেন যে, নীতীশ কুমারের পুত্র নিশান্ত কুমারকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করা হোক। নিশান্ত নিজে রাজনীতিতে আসতে অনিচ্ছুক হলেও অনন্তের দাবি, “নিশান্তকে বুঝিয়ে রাজি করানো হবে, ও তো এখনও বাচ্চা। ও ডেপুটি সিএম হলে নীতীশজির নির্দেশ মতোই সব কাজ দারুণভাবে চলবে।” এমনকি তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে এও বলেন যে, নীতীশ কুমার আগামী নির্বাচনে না লড়লে তিনিও রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন।

তেজস্বীকে ‘খোঁচা’ ও আরজেডি-কে চ্যালেঞ্জ

তেজস্বী যাদবের “সব নেতা লালু পাঠশালার ছাত্র” মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অনন্ত সিং। তিনি বিদ্রুপ করে বলেন, “তেজস্বীর এখন হাতে কোনো কাজ নেই, তাই মুখটাই যা সম্বল। ও কেবল লালু যাদবের ছেলে বলেই লোকে ওকে চেনে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এবার বিহারের মাটিতে লড়াই হবে সরাসরি বিজেপি বনাম আরজেডি-র।

নীতীশ যুগের অবসান, সম্রাটের অভিষেক

উল্লেখ্য, ২১ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা নীতীশ কুমার আজ মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিল্লির রাজনীতিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর ছেড়ে যাওয়া মসনদে কাল শপথ নেবেন সম্রাট চৌধুরী। এই পরিবর্তনের ফলে বিহারের দীর্ঘদিনের ‘ড্রাই স্টেট’ তকমা ঘুচবে কি না, এখন সেটাই দেখার।