ভোটের মুখে ‘টার্গেট’ অভিষেক! স্ক্রিনশট ফাঁসের হুঁশিয়ারি দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বিঁধল তৃণমূল

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র ৭ দিন বাকি। ঠিক এই চূড়ান্ত লগ্নে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে শোরগোল ফেলে দিল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতাদের প্রচারে বাধা দেওয়া এবং হেনস্থা করার পরিকল্পনা চলছে। বিশেষ করে নিশানায় রয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কী অভিযোগ তৃণমূলের?
তৃণমূল সূত্রের দাবি, চেকিং বা তল্লাশির নাম করে অভিষেক ও রুজিরার গাড়ি আটকানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। দলের নেতাদের দাবি, তাঁদের কাছে এমন কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট বা স্ক্রিনশট রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে নির্বাচন কমিশন ও তাদের নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষকরা এই ধরনের নির্দেশ দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আগে অভিযোগ করেছিলেন যে, বুথ এজেন্টদের ভয় দেখাতে গ্রেফতারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তৃণমূলের মতে, এই পুরো বিষয়টি ‘অগণতান্ত্রিক’ এবং তাঁরা এর বিরুদ্ধে কমিশনের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
কমিশনের কড়া জবাব
তৃণমূলের এই দাবি প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের কোনও নির্দেশের কথা তাঁদের জানা নেই। কমিশন সূত্রে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে:
-
পুলিশ পর্যবেক্ষকদের এমন কোনও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
-
তবে নিয়ম অনুযায়ী, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে কমিশন যে কারও হেলিকপ্টার বা গাড়ি তল্লাশি করার অধিকার রাখে।
-
অতীতেও বড় মাপের নেতাদের ক্ষেত্রে এমন তল্লাশির নজির রয়েছে এবং এটি রুটিন প্রক্রিয়ার অংশ।
অভিষেকের তোপ ও আইপ্যাক বিতর্ক
গত রাতে আইপ্যাক কর্তা বিনেশ চান্দেলের গ্রেফতারি নিয়ে ইতিমধ্যেই এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডি-সিবিআইয়ের এই অতিসক্রিয়তাকে ‘গণতন্ত্র নয়, ভীতি প্রদর্শন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার গাড়ি তল্লাশি নিয়ে কমিশনের সঙ্গে সংঘাতের পথে হাঁটল ঘাসফুল শিবির।
উপসংহার: ভোটের মুখে তল্লাশি এবং হেনস্থার এই অভিযোগ কি নিছকই রাজনৈতিক কৌশল, নাকি এর পেছনে গভীর কোনও সমীকরণ রয়েছে? শাসকদলের ‘স্ক্রিনশট’ প্রকাশের হুঁশিয়ারি এবং কমিশনের অনড় অবস্থান— এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে তপ্ত বাংলার নির্বাচনী আকাশ।