ডিএ-তে ফের বড় ধাক্কা! বকেয়া মেটাতে সুপ্রিম কোর্টে সময় চাইল নবান্ন, কর্মীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে কি ফের অনিশ্চয়তার মেঘ? রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য আপাতত স্বস্তির খবর নেই। বকেয়া মেটানোর জন্য নির্ধারিত সময়সীমা আরও বাড়িয়ে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে নবান্ন। বুধবার বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হতে চলেছে।
কেন পিছিয়ে যেতে চাইছে রাজ্য?
গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, পঞ্চম পে-কমিশনের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে বকেয়া ৭৫ শতাংশ মেটানোর রূপরেখা তৈরির জন্য একটি কমিটিও গঠন করে আদালত। কিন্তু রাজ্য সরকার এখন সেই সময়সীমা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে। আদালতের কাছে রাজ্যের যুক্তিগুলি হলো:
-
আর্থিক সঙ্কট: রাজ্যের কোষাগারে টান রয়েছে এবং কেন্দ্রের থেকে ঋণের অনুমোদন মেলেনি।
-
ভোটের খরচ: ২০২৬-এর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল পরিমাণ অর্থের সংস্থান করতে হচ্ছে রাজ্যকে।
-
টেকনিক্যাল সমস্যা: বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য তৈরি বিশেষ পোর্টালটি এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
-
তথ্যের অভাব: ২০১৬ সালের আগের বহু কর্মীর সার্ভিস বুক এবং পেনশনভোগীদের তথ্য এখনও ডিজিটাল করা হয়নি, যা সময়সাপেক্ষ কাজ।
আদালতের আগের কড়া অবস্থান
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে রাজ্যকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ জমা দিতে হবে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া মেটানোর কিস্তি নির্ধারণ করার কথা ছিল। কিন্তু নবান্নের এই নয়া আবেদনে পুরো প্রক্রিয়াটিই এখন ঝুলে যাওয়ার মুখে।
কর্মীদের নজর বুধবারের শুনানিতে
রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি এই বকেয়া ডিএ। আদালতের নির্দেশে যখন আশার আলো দেখা যাচ্ছিল, ঠিক তখনই রাজ্যের এই ‘সময় চাওয়ার’ কৌশল তাঁদের হতাশ করেছে। বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের আবেদন গ্রহণ করে সময় বৃদ্ধি করে, না কি কড়া কোনও নির্দেশ দেয়— সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।