“মোদী আসলে দেশদ্রোহী, ভারতকে বেচে দিয়েছেন!”— বাংলা এসে চরম বোমা ফাটালেন রাহুল গান্ধী, তোলপাড় দেশ!

২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ‘বোমা’ ফাটালেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি ‘দেশদ্রোহী’ বলে তোপ দাগলেন তিনি। ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির আড়ালে দেশ বিক্রির যে অভিযোগ রাহুল আগে তুলেছিলেন, মালদহের জনসভা থেকে তা আরও তীব্রভাবে পুনরায় ব্যক্ত করলেন তিনি।

“মোদী দেশপ্রেমিক নন, দেশদ্রোহী”

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, ওয়াশিংটনের চাপের মুখে নতি স্বীকার করেছে ভারত সরকার। তাঁর অভিযোগ:

“মোদীজি ভারতকে আমেরিকার হাতে বিক্রি করে দিয়েছেন। কৃষি ক্ষেত্র ধ্বংস হয়ে যাবে, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এখন আমেরিকার কব্জায়। উনি দেশপ্রেমিক নন, উনি আসলে দেশদ্রোহী।”

রাহুলের দাবি, এই চুক্তির ফলে ৯.৫ লক্ষ কোটি টাকার মার্কিন পণ্য ভারতে ঢুকবে। এর ফলে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ‘সুনামি’র মতো প্রভাব পড়বে এবং ভারতের হাজার হাজার কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।

তথ্য চুরি ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন

শুধুমাত্র ব্যবসা নয়, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও মোদী সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন রাহুল। তিনি দাবি করেন, দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য (Data) আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যা ভারতের সার্বভৌমত্বের জন্য এক বিশাল হুমকি।

বাংলায় মমতার সরকারকে আক্রমণ

এদিন মোদীকে আক্রমণের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকেও রেয়াত করেননি রাহুল। তিনি বলেন:

  • কর্মসংস্থানের অভাব: বাংলায় মমতা সরকার ৫ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেও ৮৪ লক্ষ যুবক বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছেন।

  • শিল্পের আকাল: মোদীর বাণিজ্য চুক্তির ফলে ক্ষুদ্র শিল্প বন্ধ হবে, অন্যদিকে বাংলায় তৃণমূল আগেই শিল্প-কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে।

বিজেপি-আরএসএসকে লক্ষ্য

বিজেপি ও আরএসএস-কে নিশানা করে রাহুল বলেন, এই সংগঠনগুলি তাদের ‘ঘৃণ্য ভাবনা’ দিয়ে সংবিধান ধ্বংস করছে। ভোটার তালিকার পুনরীক্ষণকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করে তিনি একে ‘ভোট চুরির চেষ্টা’ বলে আক্রমণ করেন।

বাংলার এই হাই-ভোল্টেজ সভা থেকে রাহুলের এই ‘দেশদ্রোহী’ মন্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে যে নতুন করে ঝড় তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।