“পকেটে ১০ টাকাও থাকে না, ক্যামেরা এল কোথা থেকে?”- মোদীর ‘নাটক’ বলে নিশানা মমতার

ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ভাইরাল ভিডিও নিয়ে এবার সরাসরি ‘চিত্রনাট্য’ তত্ত্ব খাঁড়া করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মুরারইয়ের সভা থেকে তিনি দাবি করেন, মোদী যা করেছেন সবটাই লোকদেখানো এবং নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা।

ক্যামেরা ও এসপিজি নিয়ে প্রশ্ন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী বা এসপিজি আগে থেকেই সেই ঝালমুড়ি তৈরি করে রেখেছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ওঁর পকেটে কি কখনও ১০ টাকা থাকে? সব নাটক! ঝালমুড়ি যদি দোকানদারেরই হবে, তবে সেখানে আগে থেকে ক্যামেরা বসানো থাকবে কেন? আসলে এসপিজি দিয়ে সব তৈরি করিয়ে আগে থেকেই গুছিয়ে রাখা হয়েছিল।” কখনও ‘চা-ওয়ালা’ আবার কখনও ‘তপস্বী’ সেজে মোদী মানুষের সঙ্গে ছলনা করছেন বলেও তোপ দাগেন তিনি।

৫৬ কোটির সেতু ও উন্নয়নের বার্তা: এদিন মুরারইবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুরাতনগ্রাম থেকে সেকেন্ডা পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৫৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পের প্রাথমিক রিপোর্ট তৈরি হয়ে গেলেও শুধুমাত্র ভোটের কারণে কাজ শুরু করা যায়নি। নির্বাচন মিটলেই এই কাজ শুরু হবে, যা স্থানীয় ব্যবসা ও যাতায়াতে বিপ্লব আনবে।

‘নারকেলের নাড়ু’ ও এজেন্সিকে তোপ: কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোর অতিসক্রিয়তা নিয়েও সরব হন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদের ইশারায় কাজ করা অফিসারদের তালিকা তাঁর কাছে আছে। কড়া সুরে তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে যেখানেই থাকুন, খুঁজে বের করে ‘নারকেলের নাড়ু’ খাওয়ানো হবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ‘নাড়ু’ মন্তব্যের আড়ালে কড়া হুঁশিয়ারিই দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে কয়লা-যোগের অভিযোগ: বীরভূমের এক বিজেপি নেতার নাম না করে মমতা অভিযোগ করেন, ওই নেতা কয়লা পাচার থেকে বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন। তৃণমূলকে হেনস্থা করতে গ্রেফতারির যে তালিকা তৈরি হয়েছে, তার বদলে ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে’ লড়াই দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন তিনি।

ভোটের মুখে ঝালমুড়ি নিয়ে শুরু হওয়া এই বাগযুদ্ধ এখন বীরভূমের গণ্ডি ছাড়িয়ে গোটা রাজ্যের রাজনীতির প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।