ছেলের জুতোর জন্য মা বেচলেন গয়না! আইপিএল অভিষেকেই ইতিহাস গড়ে দুনিয়াকে কাঁদালেন বিহারের সাকিব

মাঠের বাইরে লড়াইটা ছিল দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে, আর মাঠের ভেতরে লড়াইটা ছিল স্বপ্নপূরণের। সোমবার রাতে রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটিং লাইন-আপ যখন খড়কুটোর মতো উড়ে যাচ্ছে, তখন ক্রিকেট বিশ্ব দেখল এক নতুন তারকার উত্থান— সাকিব হুসেন। বিহারের এই পেসার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জার্সিতে অভিষেক ম্যাচেই ২৪ রান দিয়ে তুলে নিলেন ৪টি উইকেট। গড়লেন আইপিএল ইতিহাসে ভারতীয় বোলার হিসেবে অভিষেকে যুগ্মভাবে সর্বাধিক উইকেটের রেকর্ড।
মায়ের শেষ সম্বল বনাম সাকিবের জেদ
সাকিবের এই সাফল্যে আজ আনন্দাশ্রু বিহারের গোপালগঞ্জ জেলায়। একসময় ক্রিকেট খেলার জন্য নূন্যতম সরঞ্জামের টাকা ছিল না বাড়িতে। ১০-১৫ হাজার টাকা দামের বোলিং শু কেনা ছিল বিলাসিতা। সাকিব এক পুরনো ভিডিওতে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, “এত টাকা জুতোর পেছনে খরচ করলে আমরা খাব কী?” ছেলের কান্না সইতে পারেননি মা। নিজের শেষ সম্বলটুকু অর্থাৎ নিজের গয়না বিক্রি করে দিয়ে ছেলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন এক জোড়া স্পাইক জুতো। আজ সেই মায়ের আত্মত্যাগই বৃথা যায়নি। কোটি টাকার আইপিএল মঞ্চে সাকিব আজ এক উজ্জ্বল নাম।
চাষির ছেলে থেকে আইপিএল নায়ক
সাকিবের বাবা পেশায় কৃষক ছিলেন, কিন্তু হাঁটুর সমস্যার কারণে কাজ ছাড়তে বাধ্য হন। অভাবের সংসারে যখন অন্ধকারের মেঘ জমেছিল, তখনই আলোর পথ দেখায় ক্রিকেট। চেন্নাই সুপার কিংসের নেট বোলার থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ডাগ-আউট— দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে হায়দরাবাদের হয়ে সুযোগ পান তিনি। আর প্রথম সুযোগেই বুঝিয়ে দিলেন, কেন তাঁকে বিহারের ‘পেসার গান’ বলা হয়।
অভিষেকেই বিরল কীর্তি
অশ্বিনী কুমারের পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে আইপিএল অভিষেকেই ৪ উইকেট নেওয়ার নজির গড়লেন সাকিব। তাঁর গতি আর সুইংয়ের সামনে দিশেহারা দেখিয়েছে রাজস্থানের তারকাখচিত ব্যাটিং লাইন-আপকে।
সাকিবের এই উত্থান শুধু একটি ক্রিকেটীয় জয় নয়, এটি সেই হাজারো তরুণের অনুপ্রেরণা যারা প্রতিকূলতার মাঝেও স্বপ্ন দেখার সাহস হারায় না। সাকিবের হাত ধরেই সম্ভবত তাঁর পরিবারের দীর্ঘ কষ্টের দিন শেষ হতে চলেছে।