মানসিক স্বাস্থ্যের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে ইনস্টাগ্রাম, জেনেনিন কী বলছে বিশেষজ্ঞরা?

আমরা সারাদিন মোবাইলের স্ক্রিনে যে সময়টা কাটাই, তা আমাদের মনের ওপর ঠিক কী প্রভাব ফেলছে? অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ওয়েলবিং রিসার্চ সেন্টার’-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’-এর অংশ হিসেবে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, সব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম আমাদের মনের জন্য সমান ক্ষতিকর নয়।

ভিলেন যখন ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক: গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার) এবং টিকটকের মতো অ্যাপগুলো মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো ভিজ্যুয়াল বা ছবি ও ভিডিও-কেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে মানসিক চাপ বাড়ার প্রবণতা সবথেকে বেশি। ল্যাটিন আমেরিকার ১৭টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, ইনফ্লুয়েন্সারদের চোখধাঁধানো কনটেন্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে হীনম্মন্যতা ও উদ্বেগ তৈরি করছে। এর ফলে অনেক ব্যবহারকারী সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে কি শান্তি আছে? গবেষণায় একটি বিপরীত চিত্রও ধরা পড়েছে। দেখা গেছে, ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রভাব তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক। নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে মানসিক চাপ কিছুটা কম থাকে এবং তাঁরা নিজেদের অনেক বেশি সংযুক্ত ও ভালো অনুভব করেন। গবেষণার মতে, হোয়াটসঅ্যাপ হলো সবথেকে কম নেতিবাচক প্রভাব ফেলা প্ল্যাটফর্ম।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা: সোশ্যাল মিডিয়ার এই নেশাকে বিশেষজ্ঞরা ‘ডুম স্ক্রলিং’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকা মস্তিষ্কে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগ বাড়ায়। তাই মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:

  • দিনে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখুন।

  • অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন।

  • ভার্চুয়াল জগতের চেয়ে বাস্তব জগতের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোয় গুরুত্ব দিন।

মনে রাখবেন, স্ক্রিনের ওপারে থাকা ঝকঝকে জীবন সবসময় সত্যি নাও হতে পারে। আপনার মানসিক শান্তি আপনারই হাতে।