১৮ মাসের প্রেমে রক্তক্ষয়ী পরিণাম! ওড়িশায় মাংস ব্যবসায়ীকে খুনে গ্রেফতার খোদ স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিক

ওড়িশার জাজপুরে গত সপ্তাহের হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডের কিনারা করল পুলিশ। মাংস ব্যবসায়ী সৌম্য সাগর সামালকে গুলি করে খুনের ঘটনায় খোদ তাঁর স্ত্রী শুভশ্রী বেহেরা ওরফে সীমাকে গ্রেপ্তার করেছে জাজপুর জেলা পুলিশ। এই ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অপরাধে শুভশ্রীর প্রেমিক তাপস কুমার খিলার এবং প্রীতি প্রভা প্রিয়দর্শিনী খিলাসহ মোট পাঁচজনকে শ্রীঘরে পাঠানো হয়েছে। জাজপুরের পুলিশ সুপার যশপ্রতাপ শ্রীমল জানিয়েছেন, পরকীয়া সম্পর্কের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ানোতেই স্বামীকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন শুভশ্রী।

তদন্তে জানা গিয়েছে, নিহতের স্ত্রী শুভশ্রী একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। ১৮ মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের পর সৌম্যর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের আগে থেকেই প্রীতি প্রভার মাধ্যমে তাঁর দাদা তাপসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় শুভশ্রীর। বিয়ের পরেও সেই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। স্বামীর নজর এড়িয়ে তাপসের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতেও যেতেন শুভশ্রী। সম্প্রতি তাপস তাঁকে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য চাপ দিচ্ছিল, কিন্তু সৌম্য এই সম্পর্কের কথা জেনে যাওয়ায় পরিবারে অশান্তি শুরু হয়। গত ৪ তারিখ তাপস ও সৌম্যর মধ্যে প্রবল কথা কাটাকাটি হয়, যেখানে সৌম্য তাপসকে খুনের হুমকি দেন। এর বদলা নিতেই তাপস খুনের নীল নকশা তৈরি করে।

ঘটনার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে বাইক আরোহী তাপস ও তার সঙ্গীরা সৌম্যকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। কটক হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। পুলিশ তিনটি দল গঠন করে রাউরকেল্লা থেকে মূল অভিযুক্ত তাপসকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই খুনের জন্য টাকা ও অস্ত্র জোগাড় করতে শুভশ্রী ও তার প্রেমিককে প্রীতি প্রভা সাহায্য করেছিলেন। পরকীয়া ও প্রতিহিংসার এই জটিল রসায়ন এখন ওড়িশা পুলিশের তদন্তের মূল বিষয়।