ভোটের আগে জোকায় রণতৎপরতা! ট্রাইবুনাল পরিদর্শনে বিচারপতিরা, চরম বিভ্রান্তিতে আমজনতা

দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু এখনও বহু ভোটারের নাম ঝুলে রয়েছে ‘বিচারাধীন’ তালিকায়। এই আইনি জট কাটাতেই দক্ষিণ কলকাতার জোকায় ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশনে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হচ্ছে এসআইআর (SIR) ট্রাইবুনালের কাজ। তবে এই মহৎ উদ্যোগের শুরুতেই অব্যবস্থার অভিযোগে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ।

বিচারপতিদের ঝটিকা পরিদর্শন আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যেই এই ট্রাইবুনালের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা। তার আগেই রবিবাসরীয় দুপুরে কেন্দ্রের সার্বিক পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে পরিদর্শনে আসেন সংশ্লিষ্ট বিচারপতিরা। নথিপত্র ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে নিরাপত্তার খুঁটিনাটি— সবকিছুই খতিয়ে দেখেন তাঁরা। প্রশাসনের লক্ষ্য, ভোট শুরুর আগেই যেন সংবেদনশীল এই বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।

শুরুতেই বিশৃঙ্খলা ও হয়রানি উদ্যোগ ভালো হলেও সমন্বয়ের অভাবে এদিন চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ। নির্দিষ্ট দিনে ডেকে পাঠিয়েও অনেককে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অপু চক্রবর্তী নামে এক ভুক্তভোগী মহিলা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, “আজ আমাদের ডাকা হয়েছিল, অথচ এখানে এসে বলা হলো কাল আসতে হবে!” একই অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন বেহালা পূর্বের বাসিন্দা কৌশিক জানাও। রবিবার কেন্দ্র বন্ধ থাকার কথা আগে জানানো হয়নি বলে দাবি বিভ্রান্ত ভোটারদের।

ভোটের মুখে প্রত্যাশার পারদ বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাইবুনালের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ পরিকল্পনা না থাকলে সাধারণ মানুষের হয়রানি বাড়বে। তবে হাজারো অব্যবস্থার মাঝেও আশার আলো দেখছেন অনেকে। যাঁদের নাম বিচারাধীন তালিকায় থাকায় ভোট দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, এই ট্রাইবুনাল চালু হলে তাঁরা দ্রুত সুরাহা পাবেন।

এখন দেখার, বিচারপতিদের এই পরিদর্শনের পর পরিকাঠামোর ত্রুটিগুলি শুধরে নিয়ে সোমবার থেকে কতটা মসৃণভাবে শুরু হয় এই গুরুত্বপূর্ণ বিচারপ্রক্রিয়া। কারণ, ভোট যে দোরগোড়ায়!