“১৫ লক্ষ টাকা কোথায়? জবাব না দিলে নাকখত দিন!” বাঁকুড়া থেকে সরাসরি মোদীকে চ্যালেঞ্জ মমতার

“আমরা যা বলি, তা করে দেখাই। তৃণমূল কোনোদিন মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে না।” রবিবার বাঁকুড়ার ছাতনার নির্বাচনী জনসভা থেকে এই ভাষাতেই বিরোধীদের তুলোধোনা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে আশ্বাস, অন্যদিকে ছিল বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ।

“মিথ্যে বললে কান কেটে নেবেন” ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে হাতিয়ার করে এদিন প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেন মমতা। তিনি বলেন, “২০১৪-তে বলা হয়েছিল সবার অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা ঢুকবে। কোথায় গেল সেই টাকা? কোথায় গেল বছরে ২ কোটি চাকরি? আমি যদি মিথ্যে বলে থাকি, তবে আমার কান কেটে নেবেন। আর যদি আপনি মিথ্যে বলে থাকেন, তবে আপনাকে নাকখত দিতে হবে।”

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বড় ঘোষণা ২০২১-এর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু এবং পরে ভাতা বৃদ্ধির কথা মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা করব করব বলে ফেলে রাখি না। যা বলি তাই করি। আজ কথা দিয়ে যাচ্ছি, আপনারা সারাজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন। এটা কোনো নির্বাচনী টোপ নয়, এটা আমাদের অঙ্গীকার।”

মানব ধর্মই শ্রেষ্ঠ ধর্ম বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতির পাল্টা দিয়ে মমতা বলেন, “তৃণমূল শুধু মানব ধর্মে বিশ্বাসী। আমরা সব ধর্ম পালন করি, কিন্তু মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ করি না। আমাদের ধর্ম হলো মানবিকতা। তাই আমাদের কাউকে নতুন করে ধর্ম শেখাতে হবে না।”

“বিষাক্ত খাবার” নিয়ে সাবধানবাণী জনসভার শেষলগ্নে এক রহস্যময় ও চাঞ্চল্যকর সতর্কতা জারি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বাইরের কোনো উল্টোপাল্টা জিনিস খাবেন না। খেয়াল রাখবেন, যাতে কেউ খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দিতে না পারে।” ভোটের মুখে তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।