নিজের পাতা ফাঁদেই আটকা ইরান! হরমুজ প্রণালীতে লুকানো ‘মাইন’ নিয়ে বিপাকে তেহরান, বিশ্বজুড়ে তেলের হাহাকার?

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আপাতত সংঘর্ষবিরতি চললেও বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত ও নাটকীয় পরিস্থিতি। চুক্তি অনুযায়ী ইরান এই জলপথ খুলে দিতে রাজি হলেও, বাস্তবে সেখানে জাহাজ চলাচল এখন কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এর কারণ কোনো যুদ্ধ নয়, বরং ইরানের নিজেদের পাতা ‘মাইন’।
ভুলে গেছে মাইনের ঠিকানা!
‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধের সময় তুরুপের তাস হিসেবে হরমুজ প্রণালীর জলতলে শত শত মাইন পুঁতেছিল ইরান। কিন্তু এখন সমস্যা হলো, সেই মাইনগুলো ঠিক কোথায় রাখা হয়েছে, তা খোদ ইরানই মনে করতে পারছে না! তাড়াহুড়ো করে ছোট নৌকায় মাইন পাততে গিয়ে তারা কোনো সঠিক লোকেশন রেকর্ড বা ম্যাপ তৈরি করেনি। ফলে এখন নিজেদের পাতা মৃত্যুফাঁদ নিজেরাই সরাতে পারছে না তেহরান।
মার্কিন চাপ ও ইরানের ‘প্রযুক্তিগত’ অজুহাত:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমাগত চাপ দিচ্ছেন যাতে দ্রুত এই রুট দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল শুরু হয়। তবে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি জানিয়েছেন, কিছু “প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার” কারণে দেরি হচ্ছে। যদিও মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, আসল সমস্যা হলো সেই মাইন শনাক্ত করার অক্ষমতা। ইরানের কাছে এই মাইনগুলো সরানোর মতো পর্যাপ্ত দক্ষতা বা প্রযুক্তি নেই বলেই মনে করছে ওয়াশিংটন।
কেন এই পরিস্থিতি বিপজ্জনক?
অদৃশ্য বিপদ: জলের স্রোতে মাইনগুলো নিজেদের জায়গা পরিবর্তন করতে পারে। কোনো জাহাজের নোঙর বা প্রপেলারের সামান্য ছোঁয়া লাগলেই ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব: বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ এই পথেই পরিবাহিত হয়। এই পথ দীর্ঘকাল বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হতে পারে।
অপরিকল্পিত পদক্ষেপ: ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস নিরাপদ রুটের একটি তালিকা দিলেও তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সামান্য পথ বিচ্যুতি মানেই সলিল সমাধি।
বিপাকে বিশ্ব বাণিজ্য:
ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ থাকা এই প্রণালীটি খোলার অপেক্ষায় রয়েছে কয়েকশ তেলের ট্যাঙ্কার। কিন্তু সাগরের নিচে বিছিয়ে থাকা এই ‘অজ্ঞাত’ মাইনফিল্ডের কারণে কোনো দেশই তাদের জাহাজ ঝুঁকিতে ফেলতে চাইছে না। ইরান এখন তাদের এই গোপন বিভ্রাট ঢাকতে প্রাণপণ চেষ্টা করলেও, সমুদ্রের তলায় লুকিয়ে থাকা সেই বিস্ফোরকগুলো এখন বিশ্ব বাণিজ্যের সামনে সবথেকে বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।