পিপিএফ-এর মেয়াদ শেষ? টাকা না তুলে আজীবনের জন্য বাড়িয়ে নিন অ্যাকাউন্টের বয়স! জানুন গোপন নিয়ম

নিরাপদ বিনিয়োগ এবং স্থিতিশীল আয়ের জন্য ভারতের বহু মানুষের প্রথম পছন্দ হলো পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF)। সাধারণত এই প্রকল্পে ১৫ বছরের একটি ‘লক-ইন পিরিয়ড’ থাকে। কিন্তু অনেকেরই অজানা যে, ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার মানেই পিপিএফ যাত্রার সমাপ্তি নয়।
কতবার বাড়ানো যায় মেয়াদ? পিপিএফ অ্যাকাউন্টের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর আপনি যতবার খুশি ৫ বছরের ব্লকে এই অ্যাকাউন্টের মেয়াদ বাড়িয়ে যেতে পারেন। অর্থাৎ, আপনি চাইলে আপনার অ্যাকাউন্টটি সারাজীবন সক্রিয় রাখতে পারেন।
মেয়াদ বাড়ানোর দুটি সহজ উপায়:
১. নতুন বিনিয়োগসহ (With Contribution): আপনি চাইলে আগের মতোই নিয়মিত টাকা জমা দিয়ে মেয়াদ বাড়াতে পারেন। এতে জমার ওপর করছাড় এবং চক্রবৃদ্ধি সুদের সুবিধাও মিলবে। ২. নতুন বিনিয়োগ ছাড়া (Without Contribution): আপনি যদি নতুন করে টাকা জমা দিতে না চান, তবুও অ্যাকাউন্টটি চালু রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে আগে থেকে জমা থাকা টাকার ওপর বার্ষিক সুদ যোগ হতে থাকবে।
মনে রাখার মতো জরুরি নিয়ম:
-
পিপিএফ-এর মেয়াদ বৃদ্ধি কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Automatically) হয় না।
-
মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার এক বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে একটি ফর্ম জমা দিয়ে মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে।
কেন পিপিএফ-এই বিনিয়োগ করবেন?
-
সুদের হার: বর্তমানে বার্ষিক ৭.১ শতাংশ হারে সুদ দিচ্ছে সরকার।
-
কর সুবিধা: এটি ‘EEE’ (Exempt-Exempt-Exempt) মর্যাদাপ্রাপ্ত। অর্থাৎ জমার টাকা, অর্জিত সুদ এবং ম্যাচিউরিটির টাকা—সবই সম্পূর্ণ কর-মুক্ত।
-
নিরাপত্তা: সরকারি গ্যারান্টি থাকায় এই বিনিয়োগ সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত।
আপনার হাতে কী বিকল্প আছে? মেয়াদ শেষে আপনি হয় পুরো টাকা তুলে নিয়ে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে পারেন, অথবা ৫ বছরের ব্লকে মেয়াদ বাড়িয়ে আপনার সঞ্চয়কে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে পারেন।