“মুসলমানরা বোকা!” হুমায়ুন কবীরের ভাইরাল ভিডিওতে তোলপাড় বাংলা, ভেস্তে গেল মিম-এর সাথে জোট!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনীতিতে নতুন ‘বোমা’! এক ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবীর এখন মধ্যমণি। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “মুসলমানরা বোকা, ওদের ভোট ভাগ করে বিজেপিকে সাহায্য করব।” যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি কোনো সংবাদমাধ্যম এবং হুমায়ুন কবীর একে ‘এআই (AI) নির্মিত জাল ভিডিও’ বলে দাবি করেছেন, কিন্তু এর রেশ ছড়িয়ে পড়েছে বহুদূর।

ছিন্ন হলো ওয়েইসির মিম-এর সাথে জোট: এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল ‘মিম’ (AIMIM) হুমায়ুন কবীরের ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র সাথে জোট ভাঙার ঘোষণা দিয়েছে। মিম-এর তরফে এক্স (X) হ্যান্ডেলে জানানো হয়েছে, “মুসলমানদের মর্যাদাহানি করে এমন কোনো মন্তব্যের সাথে মিম যুক্ত হতে পারে না।” ফলে ভোটের ঠিক আগে মুর্শিদাবাদে বড় ধাক্কা খেলেন প্রাক্তন এই তৃণমূল বিধায়ক।

ভিডিওতে কী আছে? সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও ক্লিপে হুমায়ুন কবীরকে দাবি করতে দেখা যাচ্ছে যে, তাঁকে ১০০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ২০০ কোটি টাকা অগ্রিমও পৌঁছে গিয়েছে। ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রীর দফতর এবং কিছু শীর্ষ নেতার নামও উল্লেখ করা হয়েছে বলে খবর। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি-র ‘বি টিম’ হিসেবে ভোট কাটতেই এই ষড়যন্ত্র।

তৃণমূলের আক্রমণ: বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে কুণাল ঘোষ এবং ফিরহাদ হাকিম কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন হুমায়ুন কবীরকে। ফিরহাদ হাকিম বলেন, “হুমায়ুন কবীর বিশ্বাসঘাতক, ও নিজের ধর্মকে বিজেপির কাছে বিক্রি করতে চাইছে।” তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় ইডি (ED) তদন্তের দাবিও তোলা হয়েছে।

হুমায়ুন কবীরের অবস্থান: সম্প্রতি বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’-এর আদলে একটি মসজিদ গড়ার ডাক দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। তাঁর দাবি, এই ভিডিওটি সম্পূর্ণ চক্রান্ত এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁর কণ্ঠস্বর নকল করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মত: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুন কবীরের মতো নেতাদের বিশ্বাসযোগ্যতা এমনিতেই কম। তবে এই ভাইরাল ভিডিওটি শেষ মুহূর্তে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। প্রশ্ন উঠছে, এই ভোট বিভাজন কি সত্যিই বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা দেবে, নাকি তৃণমূলের হাত আরও শক্ত করবে?

ভোটের লড়াইতে এই ‘ডিজিটাল তর্জা’ এখন বাংলার প্রতিটি চায়ের আড্ডায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।