হরমুজ প্রণালী না খুললে ‘নরক’ দেখবে ইরান! ৩৯ দিনের যুদ্ধের মাঝে ট্রাম্পের পারমাণবিক হুঁশিয়ারি?

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ৩৯তম দিনে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। মঙ্গলবার (৭ই এপ্রিল, ২০২৬) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি শিউরে ওঠা পোস্ট করে ইরানকে সরাসরি ‘সভ্যতা ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্পের সাফ কথা, আজকের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য খুলে না দিলে ইরানকে এমন এক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে যা আগে কখনও দেখেনি বিশ্ব।
ট্রাম্পের ‘ডেডলাইন’ ও হুঁশিয়ারি: আজ রাত ৮টার (আমেরিকার স্থানীয় সময়) মধ্যে ইরানকে নতি স্বীকারের চরম সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন—
“আজ রাতেই একটি আস্ত সভ্যতা মারা যেতে পারে, যা হয়তো আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, কিন্তু সম্ভবত এটাই ঘটতে চলেছে। আগামীকালের রাতটা ইরানের জন্য শেষ রাত হতে পারে।”
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও তেলের রাজনীতি: গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ থমকে গিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ৪৭ বছরের ‘দুর্নীতি ও সন্ত্রাস’ শেষ করার এটাই সুবর্ণ সুযোগ।
সামরিক তৎপরতা: সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ইরানের তেলের মূল কেন্দ্র খর্গ দ্বীপে (Kharg Island) এবং বেশ কিছু সামরিক বাঙ্কারে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এমনকি ইরানের মাটির গভীরে থাকা আইআরজিসি (IRGC) নেতৃত্বের গোপন আস্তানায় ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বোমা ফেলা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানের অবস্থান: আমেরিকার এই ধ্বংসাত্মক হুঁশিয়ারির মুখেও নতি স্বীকার করতে নারাজ তেহরান। ইরানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, কোনো বিদেশি শক্তি তাদের সার্বভৌমত্ব কেড়ে নিতে পারবে না। তারা পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, আমেরিকার যে কোনো হামলার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ইজরায়েলসহ সংলগ্ন অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক: জাতিসংঘ এই পরিস্থিতিকে ‘মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, ট্রাম্প যদি সত্যিই কোনো বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেন, তবে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রূপ নিতে পারে।