ভোটের মুখে মাস্টারস্ট্রোক মমতার? কয়েক ধাপ এগোল ডিএ ফাইল, পকেটে বাড়তি টাকা আসার কাউন্টডাউন শুরু

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মন জয়ে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নবান্ন। সূত্রের খবর, দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মেটানোর ফাইলটি এবার নবান্নের অর্থ দপ্তরে কয়েক ধাপ এগিয়েছে। মে মাসের বেতন বা তার আগেই কর্মীদের অ্যাকাউন্টে বাড়তি ডিএ ঢোকার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ফাইল এগোল কয়েক ধাপ গত কয়েকদিন ধরে নবান্নের অলিন্দে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ডিএ প্রদানের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে অর্থ দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর, ডিএ-র হিসেবনিকেশ চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন এই আকস্মিক তৎপরতা? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ময়দানে সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভ প্রশমিত করা তৃণমূল সরকারের কাছে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
-
ভোট কর্মীদের মন জয়: নির্বাচনের কাজে যুক্ত থাকেন মূলত সরকারি কর্মীরাই। তাঁদের সন্তুষ্ট রাখা ভোটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য জরুরি।
-
কেন্দ্রের সঙ্গে ফারাক কমানো: বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ-র ফারাক অনেকটাই বেশি। সেই ব্যবধান কিছুটা কমিয়ে কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমন করতে চাইছে শাসক শিবির।
কত শতাংশ বাড়তে পারে ডিএ? যদিও সরকারিভাবে এখনও কোনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার আরও ৪% থেকে ৬% ডিএ বাড়ানোর কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তবে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী, শিক্ষক এবং পেনশনভোগীরা সরাসরি উপকৃত হবেন।
বিরোধীদের কটাক্ষ এই তৎপরতা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলো। বিজেপির দাবি, “ভোট এলেই মমতার ডিএ-র কথা মনে পড়ে, বাকি সময় আদালত আর মামলার ভয় দেখান।” অন্যদিকে, কোঅর্ডিনেশন কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কোনো কিস্তি নয়, পূর্ণ বকেয়া ডিএ (Arrear) মিটিয়ে দিতে হবে।
নবান্ন কি শেষমেশ নির্বাচনের আগে বড় কোনো ঘোষণা করবে? নাকি এটি স্রেফ নির্বাচনী আশ্বাস হয়েই থেকে যাবে? সব নজর এখন মুখ্যমন্ত্রীর পরবর্তী ঘোষণার দিকে।