গ্ল্যামার আছে কিন্তু লাভ নেই? আইপিএল দলগুলোর পকেট থেকে উবে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি! বিস্ফোরক রিপোর্ট

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL) মানেই আমরা বুঝি কোটি কোটি টাকার চুক্তি, নিলামের রেকর্ড ভাঙা দর আর গ্ল্যামারের ছড়াছড়ি। কিন্তু ২০২৬ মরসুমের মাঝপথে যে পরিসংখ্যান সামনে এল, তা রীতিমতো পিলে চমকানোর মতো। একটি সাম্প্রতিক আর্থিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, প্রতি বছর আইপিএল আয়োজন করতে গিয়ে বিসিসিআই (BCCI) এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকা!

কোথায় যাচ্ছে এত টাকা? অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠতে পারে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট লিগে লোকসান হচ্ছে কেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে:

  • বিশাল অপারেশনাল খরচ: গত কয়েক বছরে যাতায়াত, হোটেল এবং লজিস্টিকসের খরচ আকাশছোঁয়া বেড়েছে। ১০টি দলের যাতায়াত এবং দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় ধরে টুর্নামেন্ট চলানোয় ব্যয়ের অঙ্ক হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে।

  • বিমা ও নিরাপত্তা: স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা এবং প্রতিটি ক্রিকেটারের বিমার প্রিমিয়াম এখন রেকর্ড উচ্চতায়।

  • ডিজিটাল পাইরেসি ও ভিউয়ারশিপের বদল: সম্প্রচার স্বত্ব থেকে বিশাল আয় হলেও, ডিজিটাল পাইরেসির কারণে বিজ্ঞাপনের একটি বড় অংশ নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া দর্শকদের মাঠে আসার প্রবণতা এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সাবস্ক্রিপশন মডেলেও কিছু পরিবর্তন আর্থিক ক্ষতি ডেকে আনছে।

ফ্র্যাঞ্চাইজিদের ওপর চাপ রিপোর্টে বলা হয়েছে, বড় বড় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো (যেমন কেকেআর, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বা সিএসকে) স্পনসরশিপ থেকে ভালো আয় করলেও, নতুন দলগুলোর পক্ষে এই ২,৪০০ কোটির ধাক্কা সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ থেকে শুরু করে সাপোর্টিং স্টাফদের বেতন— সব মিলিয়ে আয়ের তুলনায় ব্যয়ের পাল্লা ভারী হচ্ছে অনেকেরই।

বিসিসিআই-এর পরিকল্পনা কী? ৭ এপ্রিল প্রকাশিত এই রিপোর্ট অনুযায়ী, বিসিসিআই ইতিমধ্যেই চিন্তাভাবনা শুরু করেছে কীভাবে এই ক্ষতি কমানো যায়। শোনা যাচ্ছে:

“আইপিএলকে আরও ব্যয়সাশ্রয়ী করতে আগামী মরসুম থেকে ভেন্যু সংখ্যা কমানো বা সেন্ট্রালাইজড লজিস্টিকস ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হতে পারে।”

আইপিএল কি তবে ধীরে ধীরে তার লাভের গরিমা হারাচ্ছে? নাকি এটি নিছকই একটি সাময়িক মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব? এই ২,৪০০ কোটির লোকসান ঢাকতে বোর্ড আগামী নিলামে কী বড় সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার।