বাবার দাপট ছিল লাল ঝান্ডায়, ছেলে ধরলেন পদ্ম! চুঁচুড়ার ঘড়িমোড়ে শমীক ভট্টাচার্যের পাশে অনিল-পুত্র, শোরগোল হুগলিতে

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে হুগলির রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল সাধারণ মানুষ। যে অনিল বসু এককালে বামফ্রন্টের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন এবং আরামবাগ থেকে রেকর্ড ব্যবধানে জিতে দিল্লি কাঁপিয়েছিলেন, তাঁরই পুত্র সৌম্য বসু এখন বিজেপির অন্যতম সৈনিক। সোমবার চুঁচুড়ার ঘড়িমোড়ে বিজেপির এক নির্বাচনী জনসভায় প্রকাশ্যে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তুলে পদ্ম শিবিরের হয়ে সওয়াল করলেন তিনি।

লাল থেকে গেরুয়া: এক অবাক করা সফর এদিন হুগলির পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়ন পেশ উপলক্ষে এক বিশাল সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের পাশেই দেখা যায় সৌম্য বসুকে। পরনে গেরুয়া উত্তরীয়, মুখে হাসি। চুঁচুড়ার বিজেপি প্রার্থী সুবীর নাগের সমর্থনে প্রচার করতে এসে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এখনকার সিপিএমের সঙ্গে তাঁর আদর্শ মেলে না।

সৌম্য বসুর বিস্ফোরক দাবি: বাবার উত্তরাধিকার ছেড়ে কেন বিজেপিকে বেছে নিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে সৌম্য বসু বলেন:

“বাবা সাংসদ বা মন্ত্রী ছিলেন বলে আমাকেও সেই দল করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। প্রত্যেকের ব্যক্তিগত পছন্দ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। এখনকার সিপিএম আর সেই আগের মতো নেই। আমি বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত এবং দলের হয়েই কাজ করতে চাই।”

অনিল বসুর সেই ইতিহাস উল্লেখ্য, অনিল বসু ছিলেন সিপিএমের অন্যতম ‘প্রতাপশালী’ নেতা। ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আরামবাগ আসন থেকে প্রায় ৬ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জিতে তিনি জাতীয় স্তরে রেকর্ড গড়েছিলেন (যা পরে প্রীতম মুন্ডে ভাঙেন)। যদিও শেষ জীবনে দলের সঙ্গে তাঁর তিক্ততা তৈরি হয়েছিল এবং ২০১২ সালে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

হুগলির সমীকরণে কতটা প্রভাব? ভোটের মুখে অনিল বসুর ছেলের এই রাজনৈতিক অবস্থান বদল বাম শিবিরের জন্য এক বড় ধাক্কা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষ করে হুগলি জেলায় যেখানে বাম ও বিজেপির মধ্যে ভোট কাটাকাটির অঙ্ক কাজ করে, সেখানে সৌম্য বসুর বিজেপি প্রীতি পদ্ম শিবিরের নিচুতলার কর্মীদের বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে।