২০২৯-এই কি শেষ হবে পাসওয়ার্ডের যুগ? গুগলের সতর্কবার্তায় তোলপাড় বিশ্ব

২০২৯ সালের মধ্যে বর্তমানের সব শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও এনক্রিপশন ব্যবস্থা ভেঙে ফেলতে পারে কোয়ান্টাম কম্পিউটার। সম্প্রতি এক ব্লগ পোস্টে বিশ্বজুড়ে ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে এই মর্মে কড়া সতর্কতা জারি করেছে গুগল (Google)।
কী এই কোয়ান্টাম হুমকি?
বর্তমানে আমরা আমাদের তথ্য সুরক্ষিত রাখতে যে এনক্রিপশন পদ্ধতি ব্যবহার করি, তা সাধারণ কম্পিউটারের পক্ষে ভাঙা অসম্ভব। কিন্তু কোয়ান্টাম কম্পিউটার কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সূত্র ব্যবহার করে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে জটিল গাণিতিক হিসাব সমাধান করতে পারে। গুগল বলছে, এই দশক শেষ হওয়ার আগেই এমন শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি হয়ে যাবে, যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বর্তমানের যেকোনো নিরাপত্তা দেয়াল গুঁড়িয়ে দিতে পারবে।
গুগলের সতর্কবার্তা ও প্রস্তুতি
অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন গুগল জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ‘পোস্ট কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি’ বা কোয়ান্টাম আক্রমণ প্রতিরোধী ব্যবস্থায় রূপান্তর করা শুরু করেছে। গুগলের মতে:
-
২০২৯ সালের মধ্যেই এনক্রিপশন ভাঙার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারে এই প্রযুক্তি।
-
ডিজিটাল সিগনেচার ও অথেনটিকেশন সার্ভিসগুলোই হবে হ্যাকারদের প্রধান লক্ষ্য।
-
অন্যান্য সংস্থাগুলোকেও এখনই এই উন্নত এনক্রিপশন ব্যবস্থায় চলে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হ্যাকারদের নতুন কৌশল: ‘Store Now, Decrypt Later’
বিশেষজ্ঞরা একটি ভয়ানক প্রবণতা লক্ষ্য করেছেন। হ্যাকাররা এখন থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে জমিয়ে রাখছে। যদিও এখন তারা সেগুলো খুলতে পারছে না, কিন্তু তাদের পরিকল্পনা হলো— ভবিষ্যতে যখন শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার আসবে, তখন এই পুরনো তথ্যগুলো সহজেই আনলক বা ডিক্রিপ্ট করে ফেলবে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
কেমব্রিজভিত্তিক কোয়ান্টাম স্টার্টআপ ‘রিভারলেন’-এর সাবেক কর্মকর্তা লিওনি মুয়েক জানিয়েছেন, যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ এই সময়সীমা ২০৩০ থেকে ২০৫০ সালের কথা বলেন, কিন্তু ঝুঁকিটা এখন অনেকটাই কাছাকাছি। যুক্তরাজ্যের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা (NCSC) ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রস্তুতির কথা বললেও গুগলের দাবি অনুযায়ী হাতে সময় আরও কম। ১০ বছর আগের অনেক সরকারি নথি আজও প্রাসঙ্গিক, তাই সেগুলো ভবিষ্যতে ভুল হাতে পড়লে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
চ্যালেঞ্জ কোথায়?
কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন কাজ।
-
তাপমাত্রা: এই সিস্টেম সচল রাখতে হিলিয়ামের সাহায্যে তাপমাত্রা প্রায় পরম শূন্য (-২৭৩° সেলসিয়াস) পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হয়।
-
স্থিতিশীলতা: শক্তিশালী কম্পিউটার গড়তে লাখ লাখ ‘কিউবিট’ (Qubit) প্রয়োজন, যা বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক ও অস্থিতিশীল।