“AI-চশমা পরেই ম্যারাথনে দৌড়!”-ইতিহাস গড়তে চলেছেন দৃষ্টিহীন শিল্পী ক্লার্ক রেনল্ডস

দৃষ্টিহীনতা কোনো বাধা নয়, বরং প্রযুক্তির সহায়তায় তা জয়ের এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করতে চলেছেন ব্রিটিশ শিল্পী ক্লার্ক রেনল্ডস। শিল্পীমহলে ‘মিস্টার ডট’ নামে পরিচিত ৪৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বিশ্বের প্রথম মানুষ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত চশমা পরে ব্রাইটন ম্যারাথনে অংশ নিতে যাচ্ছেন।
কীভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি?
ক্লার্ক রেনল্ডস পরবেন একটি ‘রে-ব্যান মেটা এআই’ চশমা, যা যুক্ত থাকবে ‘বি মাই আইজ’ (Be My Eyes) নামক একটি অ্যাপের সঙ্গে।
-
ভার্চুয়াল গাইড: এই অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্বেচ্ছাসেবকরা ক্লার্কের চশমার ক্যামেরায় সামনের রাস্তা দেখতে পাবেন।
-
ভয়েস কমান্ড: চশমার স্পিকারে স্বেচ্ছাসেবকরা ক্লার্ককে বলে দেবেন সামনে কোনো ডাস্টবিন, পার্ক করা গাড়ি বা অন্য কোনো বাধা আছে কি না।
-
রিমোট সহায়তা: সরাসরি কোনো রক্ত-মাংসের গাইড পাশে না থাকলেও প্রযুক্তির মাধ্যমে হাজার মাইল দূর থেকে মানুষ তাঁকে পথ দেখাবে।
কেন এই চ্যালেঞ্জ?
‘রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা’ নামক বংশগত রোগে আক্রান্ত ক্লার্কের দৃষ্টিশক্তি অত্যন্ত ক্ষীণ। গত বছর লন্ডন ম্যারাথনে একজন গাইডের সাহায্য নিয়ে দৌড়ালেও এবার তিনি চেয়েছিলেন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজের গতিতে দৌড়াতে। তাঁর লক্ষ্য:
-
সচেতনতা বৃদ্ধি: ‘ফাইট ফর সাইট’ চ্যারিটির জন্য ২ হাজার পাউন্ড তহবিল সংগ্রহ করা।
-
ধারণা বদলানো: দৃষ্টিহীন মানুষ সম্পর্কে সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেওয়া।
-
প্রযুক্তির জয়: দৃষ্টিহীনদের জীবনে এআই চশমা কতটা আমূল পরিবর্তন আনতে পারে তা বিশ্বকে দেখানো।
প্রস্তুতির গল্প
প্রশিক্ষণের সময় ক্লার্ককে এখন পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক সাহায্য করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার এক নারী থেকে শুরু করে থাইল্যান্ডে ছুটিতে থাকা স্কটিশ পর্যটক এবং কানাডার অবসরপ্রাপ্ত নৌ-কর্মকর্তা। ক্লার্কের ভাষায়, “তারা আমার চোখ দিয়েই পুরো পৃথিবী দেখছেন। আমরা দৌড়াতে দৌড়াতে আবহাওয়া থেকে খেলাধুলা— সব বিষয়ে গল্প করি।”
ম্যারাথনের লক্ষ্য
আগামী ম্যারাথনে ক্লার্কের জন্য একদল বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হচ্ছে, যেখানে তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের পাশাপাশি বেশ কিছু সেলিব্রিটিও থাকতে পারেন। ২৬.২ মাইলের এই দীর্ঘ পথ তিনি ৬ ঘণ্টার মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছেন।