আপ-এ গৃহযুদ্ধ! রাজ্যসভার পদ খোয়ালেন রাঘব চাড্ডা, কেজরীবালের দলের বিরুদ্ধেই তুললেন বিস্ফোরক অভিযোগ

আম আদমি পার্টির অন্দরে ফাটল এখন কার্যত আগ্নেয়গিরির রূপ নিয়েছে। দলের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডাকে রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার পদ থেকে সরিয়ে দিল আপ (AAP)। দলের এই চরম সিদ্ধান্তের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পালটা গর্জে উঠেছেন রাঘব। একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, “সাইলেন্সড, বাট নট ডিফিটেড” (খামোশ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু হার মানিনি)। এই ঘটনার পর থেকেই দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

সংসদে বলার সুযোগ কাড়ল দল?
রাঘব চাড্ডার অভিযোগ, আম আদমি পার্টি রাজ্যসভা সচিবালয়কে অনুরোধ করেছে যাতে তাঁকে সংসদে আর কথা বলতে না দেওয়া হয়। নিজের ভিডিও বার্তায় রাঘব আমজনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন, “সাধারণ মানুষের ইস্যু তুলে ধরা কি অপরাধ? আমি কি কোনও ভুল করেছি? যখনই সুযোগ পেয়েছি, আমি সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়েছি। আজ আমাকে কেন চুপ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে?” রাঘবের এই আবেগঘন পোস্টের পর পাল্টা আক্রমণ শানাতে দেরি করেনি কেজরীবালের দল।

ভীতু ও সিঙাড়া খোঁচা:
আম আদমি পার্টির ন্যাশনাল মিডিয়া চিফ অনুরাগ ধান্দা সরাসরি রাঘবকে ‘ভীতু’ বলে আক্রমণ করেছেন। দলের অভিযোগ, রাঘব এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পান। অনুরাগ ধান্দা বলেন, “বিগত কয়েক বছরে রাঘব তুমি ভীতু হয়ে গিয়েছ। সংসদে দেশের আসল ইস্যু না তুলে তুমি বিমানবন্দরের ক্যান্টিনে সিঙাড়া সস্তা করা নিয়ে কথা বলে সময় নষ্ট করেছ। দেশের লড়াইয়ের সময় তুমি গুরুত্বহীন বিষয়ে মেতেছিলে।”

বিদ্রোহের নেপথ্যে একাধিক কারণ:
দলের দাবি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাঘবকে পাশে পাওয়া যায়নি। গুজরাটে আপ কর্মীদের গ্রেফতারির সময় তিনি মৌন ছিলেন। এমনকি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতেও সই করেননি তিনি। সবথেকে বড় অভিযোগ হলো, সংসদে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্যের সময় যখন আপ-এর বাকি সদস্যরা প্রতিবাদে ওয়াক-আউট করেছিলেন, তখন রাঘব চাড্ডা নিজের আসনেই বসেছিলেন। এই ‘বিদ্রোহী’ আচরণের কারণেই তাঁর ডানা ছাঁটা হলো বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।