দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধামাকা! ইউজিসি-র সিলমোহর, বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পেল এনসিইআরটি

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। গত ৩০ মার্চ একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে, ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং বা এনসিইআরটি (NCERT)-কে ‘ডিমড টু বি ইউনিভার্সিটি’ বা সমতুল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই ঘোষণার ফলে এখন থেকে এনসিইআরটি নিজেই স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করতে পারবে।

ইউজিসি-র সবুজ সংকেত ও নতুন ক্ষমতা:
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC)-র বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ মেনেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র দিল্লির প্রধান দপ্তর নয়, এনসিইআরটি-র অধীনে থাকা দেশের ছয়টি আঞ্চলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও (RIE) এই একই মর্যাদা লাভ করছে। এর ফলে শিক্ষক শিক্ষণ এবং শিক্ষা গবেষণার ক্ষেত্রে একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করতে চলেছে এই সংস্থা।

কড়া শর্ত ও স্বচ্ছতা:
তবে এই নতুন মর্যাদার সাথে বেশ কিছু কঠোর শর্তও জুড়ে দিয়েছে কেন্দ্র। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে:

এনসিইআরটি কোনোভাবেই শিক্ষাকে ব্যবসায়িক রূপ দিতে পারবে না বা মুনাফা অর্জন করতে পারবে না।

প্রতিটি নতুন পাঠ্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে ইউজিসি-র নিয়মাবলী অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে।

ভবিষ্যতে অফ-ক্যাম্পাস বা বিদেশের মাটিতে কোনো শাখা খুলতে চাইলে কেন্দ্রের কড়া নীতি মেনে এগোতে হবে।

গবেষণা ও ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ছোঁয়া:
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP 2020) মেনে গবেষণার ওপর সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রক নির্দেশ দিয়েছে, এনসিইআরটি যেন অবিলম্বে উদ্ভাবনী শিক্ষা কর্মসূচি ও পিএইচডি কোর্স শুরু করে। পাশাপাশি, এখন থেকে এনআইআরএফ (NIRF) র‍্যাঙ্কিংয়ে অংশ নেওয়া তাদের জন্য বাধ্যতামূলক। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার লক্ষ্য পূরণে প্রতিটি পড়ুয়ার জন্য ‘অ্যাকাডেমিক ব্যাঙ্ক অফ ক্রেডিট’ (ABC) তৈরি করতে হবে, যেখানে অর্জিত নম্বর সরাসরি ডিজিটাল লকারে সংরক্ষিত থাকবে। এই পরিবর্তনের ফলে দেশের স্কুল শিক্ষা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।