আর্জেন্টিনা কি সত্যিই বিশ্বাসঘাতকতা করল? কেরলের ক্রীড়ামন্ত্রীর ভয়ংকর অভিযোগে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া

কেরলে লিওনেল মেসির আসা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনায় এবার যোগ হল এক চাঞ্চল্যকর মোড়। বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘প্রতারণা’ ও ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তুললেন কেরলের ক্রীড়ামন্ত্রী ভি আবদুরাহিমান। তাঁর দাবি, মোটা অঙ্কের অর্থ পাওয়ার পরেও নির্ধারিত সূচি মেনে কেরলে খেলতে আসেনি নীল-সাদা ব্রিগেড।

গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা ছিল যে, এলএম টেন (LM10) কেরলের মাটিতে পা রাখবেন। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি। একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী আবদুরাহিমান বলেন, “বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এখানে আনার জন্য আমরা জানপ্রাণ লড়িয়ে দিয়েছিলাম। সাধারণ মানুষের আবেগ জড়িয়ে ছিল এই সফরের সাথে। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর আর্জেন্টিনা দল আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ওরা যে এভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করবে, তা কল্পনাও করতে পারিনি। প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও ওরা খেলতে আসেনি।”

মন্ত্রীর এই অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই ক্রীড়ামহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রীর বয়ান অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা দলকে ভারতে আনার জন্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকার প্রয়োজন ছিল। এত বিশাল অঙ্কের স্পনসর জোগাড় করা ছিল এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। তিনি দাবি করেছেন, শুধু কেরল নয়, আরও পাঁচটি দেশের সঙ্গে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA) একই আচরণ করেছে। টাকা নিয়েও ম্যাচ খেলতে যায়নি তারা। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক স্তরে মামলা দায়ের করার এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

তবে এই বিতর্কের নেপথ্যে রাজনৈতিক সমীকরণও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৬ সালের কেরল বিধানসভা নির্বাচন দোরগোড়ায়। এর আগে মেসিদের আসার দিনক্ষণ ঘটা করে ঘোষণা করেও তাদের আনতে ব্যর্থ হওয়া রাজ্য সরকারের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিরোধীদের মতে, নির্বাচনের মুখে আমজনতার ক্ষোভ প্রশমিত করতেই এখন ‘প্রতারণা’র তত্ত্ব খাড়া করে মুখরক্ষার চেষ্টা করছেন মন্ত্রী।