‘মমতাকে আর বিষ্ণুপুর জেলা করতে হবে না, ৪ মের পর আমরাই করব’, হুঁশিয়ারি সৌমিত্র খাঁর!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজতেই সরগরম বাংলার রাজনীতি। আজ, ৩১ মার্চ ২০২৬, নির্বাচনী প্রচারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিষ্ণুপুর সফরের আগেই চড়ল পারদ। তৃণমূল নেত্রীর নাম না করে তাঁকে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। বিষ্ণুপুরকে জেলা ঘোষণা করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে সৌমিত্র বলেন, “আপনাকে আর বিষ্ণুপুরকে জেলা ঘোষণা করতে হবে না, ৪ মের (ফলপ্রকাশের দিন) পর সরকার গড়ে আমরাই এই কাজ সম্পূর্ণ করব।”
মিথ্যা প্রতিশ্রুতির অভিযোগ সৌমিত্রর:
বিজেপি সাংসদ দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী বছরের পর বছর কেবল ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে গিয়েছেন। বালুচরী শাড়ি শিল্পের উন্নয়ন বা জাতীয় স্তরের স্টেডিয়াম তৈরি—কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। সৌমিত্রর দাবি, বর্তমানে পুরসভার যা কাজ হচ্ছে, তার সিংহভাগই কেন্দ্রীয় সরকারের টাকায়। তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষকে ‘গদ্দার’ আখ্যা দিয়ে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, এবার এখানে ‘মাতৃশক্তি’র জয় হবে এবং বিজেপির শুক্লা চট্টোপাধ্যায় বিপুল ভোটে জিতবেন। গতবার তন্ময়কে প্রার্থী করা যে বিজেপির ভুল ছিল, তাও অকপটে স্বীকার করেন তিনি।
পাল্টা আক্রমণে তৃণমূল:
সৌমিত্রর এই আক্রমণকে ‘পাগলের প্রলাপ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি দেবনাথ বাউরী। তিনি দাবি করেন, এই জেলার ৬টি আসনেই তৃণমূল জিতবে। সৌমিত্রকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আগে উনি দিল্লি সামলান, তারপর বাংলার কথা ভাববেন।”
হলদিয়ায় শুভেন্দুর মনোনয়ন:
অন্যদিকে, মেদিনীপুরের রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু শুভেন্দু অধিকারী গতকাল ৩০ মার্চ হলদিয়া মহকুমা শাসকের দফতরে নিজের মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। ২০২১-এর নন্দীগ্রাম জয়ের স্মৃতিচারণ করে শুভেন্দু জানান, সংখ্যালঘু ভোট মমতার পাশে থাকলেও নন্দীগ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষেরাই তাঁকে জিতিয়েছিলেন, তাই তাঁরাই তাঁর ‘ভগবান’। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের উপস্থিতিতে এক বিশাল ‘বিজয় সংকল্প সভা’র মাধ্যমে শুভেন্দু নিজের আত্মবিশ্বাস জাহির করেন।