রাহুলের শেষযাত্রায় কেওড়াতলায় জনজোয়ার! ‘খুন না গাফিলতি?’ প্রোডাকশন হাউসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক শতরূপ!

সোমবার বিকেলে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হল অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রিয় অভিনেতাকে শেষ বিদায় জানাতে হাজির হয়েছিলেন পাড়া-প্রতিবেশী, সহকর্মী থেকে শুরু করে তাঁর রাজনৈতিক কমরেডরা। তবে শোকের আবহ ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে উঠছে একটি প্রশ্ন— শুটিং সেটে রাহুলের এই অকালমৃত্যুর দায় নেবে কে?
শতরূপের বিস্ফোরক অভিযোগ:
শ্মশানে দাঁড়িয়ে বাম নেতা শতরূপ ঘোষ রীতিমতো তোপ দাগেন প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, “রাহুল আমার থেকে বেশি র্যাডিকাল ছিল। প্রোডাকশন হাউজ বলছে প্যাক-আপের পর রাহুল নিজের দায়িত্বে জলে নেমেছিল। কিন্তু ওর সহ-অভিনেত্রীর ভাইরাল ভিডিও বলছে অন্য কথা। ওড়িশা পুলিশ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়াই শুটিং হচ্ছিল। নিজেদের বেআইনি কাজ ঢাকতে মৃত মানুষের চরিত্রে কালিমা লেপন করা হচ্ছে। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।”
নিরাপত্তা নিয়ে সরব রুদ্রনীল:
বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষও সুর চড়িয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “শুটিংয়ে ড্রোনের শট নেওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আর প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান মিলছে না কেন? তালসারির শান্ত খাড়িতে এক ঘণ্টা কেউ জলের নিচে থাকতে পারে না। কেউ সত্যিটা লুকানোর চেষ্টা করছে। আর্টিস্টদের নিরাপত্তার কোনো বাজেট থাকে না কেন?”
অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে অভিনেতারা:
অভিনেতা বিমল চক্রবর্তী এবং জ্যাকের কণ্ঠেও ছিল আক্ষেপের সুর। বিমল বাবু প্রশ্ন তোলেন, “এভাবেই কি অভিনেতারা লাশকাটা ঘরে শুয়ে থাকবেন? বৌদি এখন কী নিয়ে বাঁচবেন?” অন্যদিকে জ্যাক বলেন, “কাজের ভয়ে অনেকে মুখ খুলছেন না, কিন্তু একটা মানুষের প্রাণ চলে গেল, এর দায় তো নিতেই হবে।” আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশন যাতে ভবিষ্যতে এমন চক্রান্ত বা গাফিলতি রুখতে কড়া পদক্ষেপ নেয়, এখন সেই দাবিই জোরালো হচ্ছে টলিপাড়ায়।